উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ওমান সাগরের জলসীমা যেন বর্তমানে এক বারুদের স্তূপ। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি ইরানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ট্রাম্পের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী ত্যাগ করা ভারতীয় জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, “গত রাতে ভারতীয় জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ড্রোন হামলা ব্যর্থ হয়েছে। এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তবে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট জাহাজের নাম উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার গোপন তথ্য ফাঁস নিয়েও তেহরানকে একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরান আলোচনার শর্তাবলি নিয়ে ভুল ও মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
ওমান সাগরের এই সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলে আটকা পড়েছেন বহু ভারতীয় নাবিক। সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের জেরে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়েছে, যেখানে কর্মরত ছিলেন ডজনখানেক ভারতীয়:
- মারিভেক্স (Marivex): ৮ জুন মার্কিন বাহিনীর হামলায় অকেজো হওয়া এই ট্যাঙ্কারে ২৪ জন ভারতীয় ছিলেন, যাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
- সেত্তেবেল্লো (Settebello): ১০ জুনের মার্কিন হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
- জলবীর (Jalveer): বৃহস্পতিবার আক্রান্ত এই জাহাজে ২০ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।
ভারত সরকার এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয়র মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিক্সকে তলব করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং (DGS) হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরের আশপাশে কর্মরত প্রায় ১৮,০০০ ভারতীয় নাবিকের জন্য কঠোর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন সাউথ ব্লকের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামরিক সংঘাত আর কূটনৈতিক বাগযুদ্ধে যখন বিশ্বরাজনীতি তোলপাড়, তখন মাঝ সমুদ্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়ে থাকা ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
