সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: পড়শি নববধূর সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেলফি (Dispute over taking selfie) তুলবেন কে? খুড়তুতো ননদ, না বৌদি? এই দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত আকার ধারণ করল বালুরঘাট (Balurghat) ব্লকের ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পরানপুর এলাকায় এক বৌভাতের অনুষ্ঠানে। ফলে অতিথি, অভ্যাগতদের আদর আপ্যায়ন কার্যত লাটে ওঠে। উলটে রুদ্রমূর্তি দুই ললনাকে শান্ত করতে তখন হিমসিম খাচ্ছেন বিয়েবাড়ির কর্তাব্যক্তিরা। চুলোচুলি, হাতাহাতি গড়ায় মারপিটে। সরাসরি বচসায় জড়িয়ে পড়েন দুই পরিবারের সদস্যরা। শেষপর্যন্ত খবর যায় থানায়। ঘটনায় মারধর এবং ভাঙচুরের অভিযোগ দায়ের করেছে দু’পক্ষই। হাতাহাতিতে আহত মোট তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তঁাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দায়ের হওয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।
মঙ্গলবার প্রতিবেশীর বৌভাতের অনুষ্ঠানে (Marriage ceremony Chaos) নিমন্ত্রিত ছিলেন স্থানীয় বধূ পায়েল মণ্ডল এবং সম্পর্কে তঁার খুড়তুতো ননদ সান্ত্বনা সরকার। স্থানীয়দের দাবি, এমনিতেই দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের শরিকি বিবাদ ছিল। এদিন, বিয়েবাড়িতে নতুন বৌয়ের সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে সেলফি তুলছিলেন পায়েল। তিনি মঞ্চ ছাড়তেই চাইছিলেন না বলে দাবি। এদিকে, সেলফি তুলবেন বলে অপেক্ষা করছিলেন ননদ সান্ত্বনা সহ আরও অনেকে। তখনই পায়েলকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ব্যঙ্গবিদ্রুপ আদানপ্রদান করেন সান্ত্বনা সহ অন্যরা। আর এই কটূক্তি পায়েলের কানে পৌঁছোতেই বাধে তুমুল বচসা, চুলোচুলি। নিমন্ত্রণ বাড়ির আয়োজকদের আপ্রাণ চেষ্টায় শেষমেশ সেই যাত্রায় গোলমাল থামে। তবে অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ফের আগুনে ঘি পড়ে। দু’পক্ষের পরিবারের সদস্যরা গোলমালে জড়িয়ে পড়েন।
পায়েলের স্বামী সুব্রত সরকার বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে ছবি তুলতে দেখে ওঁরা কটূক্তি করেন। এই নিয়ে বিয়েবাড়িতে বচসা শুরু হয়। পরে আমরা বাড়ি ফিরলে ওঁরা দলবেঁধে, দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে আমার স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন। আমি ও আমার বৃদ্ধ বাবা ওঁদের আটকাতে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়েছে। ওঁদের মারধরের জেরে গুরুতর জখম হয়েছেন আমার বাবা। ওঁকে ও আমার স্ত্রীকে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। আমি ওঁদের পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’
এদিকে সান্ত্বনার ভাই বিদ্যুৎ সরকার বলেন, ‘বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে গোলমাল হয়। বিষয়টা ওখানেই মিটে গিয়েছিল। কিন্তু পায়েল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আমাদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর এবং মারধর করেন। এতে আমার মা গুরুতর জখম হয়েছেন। তঁাকে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এছাড়া অন্যরাও এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। আমরা ওদের শাস্তি চেয়ে বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’
