শিলিগুড়ি: স্কুল ফাঁকি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার শিলিগুড়ির (Siliguri) উত্তরকন্যায় দাঁড়িয়ে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন (Dipak Barman)। বিগত সরকারের আমলে শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে স্কুল এড়িয়ে রাজনৈতিক মিছিলে হাঁটা বা নেতাদের পিছনে ঘোরার যে অভিযোগ ছিল, তা বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ।
উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকজন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই) (DI) সঙ্গে দেখা করে তাঁদের বেশকিছু অভাব-অভিযোগ শোনেন শিক্ষামন্ত্রী। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকরা বিভিন্ন স্কুলের পরিকাঠামো, বদলি ও জেলা শিক্ষা দপ্তরের কার্যালয়ের সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এরপরেই মন্ত্রী জানান, এখন থেকে প্রতি শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ পর্যন্ত তিনি উত্তরকন্যাতে বসবেন। তাঁর অধীনস্থ তিনটি দপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে যাঁদের অভাব-অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট দিনে তিনি তা শুনবেন।
দীপক বলেন, ‘তৃণমূল আমলে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন এবং যাবেন। বিশেষ সমস্যা থাকলে সেটা আলাদা ব্যাপার। কিন্তু কেউ যদি স্কুলে না গিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যান আর তেমন খবর মেলে, তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ চাকরি বিক্রির জেরে পূর্বতন সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করে মন্ত্রী জানান, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফের তুলে আনাই তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অবিলম্বে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
মন্ত্রীর এই কড়া বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির দার্জিলিং জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ রাজগুরুর কথায়, ‘পঠনপাঠনের ক্ষতি করে কেউ যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ না দেন, সে কথা আমরা বারবার বলেছি। তৃণমূল আমলে একাংশ শিক্ষক নেতা স্কুলে গিয়ে শুধু উপস্থিতির খাতায় সই করেই চলে যেতেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। তবে সরকারকে এটাও দেখতে হবে, বিজেপিপন্থী শিক্ষকরাও যেন কয়েকদিন পর থেকে স্কুলে গিয়ে ছড়ি না ঘোরান।’ অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহামঞ্চের শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলার সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শিক্ষকরা কোনও ঝান্ডাধারী দলের মিছিলে যাবেন না, এটাই আদর্শ হওয়া উচিত। শিক্ষা সংক্রান্ত দাবিতে তাঁরা সরব হবেন, লড়াই করবেন- এটাই কাম্য। মন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত।’
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্রশিল্প দপ্তরেরও দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রী দীপক। এদিন শিক্ষকদের পাশাপাশি শিল্পোদ্যোগীরাও উত্তরকন্যায় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। শিল্পের প্রসারে আর কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, প্রতিটি শিল্পতালুকের জন্য একজন করে আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও এদিন কথা হয়েছে।

