দিনহাটা: দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে এসে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের পরিজন। আউটডোরের গেটের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে কার্যত শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধ এড়াতে অনেককেই নাকে রুমাল চেপে, কাউকে আবার হাত দিয়ে নাক বন্ধ করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। দিনহাটা মহকুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। হাসপাতালের গেটের সামনে এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কেবল সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড়সড়ো হুমকি।
হাসপাতালের আবর্জনা খোলা অবস্থায় পড়ে থাকলে সেখানে মাছি, মশা এবং অন্য কীটপতঙ্গ বংশবৃদ্ধি করে। এর ফলে জলবাহিত রোগ যেমন টাইফয়েড, কলেরা ও ডায়ারিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। এছাড়া মশাবাহিত রোগ ডেিঙ্গ বা ম্যালেরিয়ার জীবাণু ছড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কোয়ালিদহর বাসিন্দা রমেন বর্মন হাসপাতালের এই পরিস্থিতিতে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘ডাক্তার দেখাতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে ভাবিনি। আগের সপ্তাহেও এসেছিলাম, তখনও একই অবস্থা ছিল। এবার তো আবর্জনা আরও জমে গিয়েছে।’ শুধু রমেনবাবুই নন, আউটডোরের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একই অভিযোগ। অনেকে জানান, দুর্গন্ধের কারণে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাবের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, পচনশীল আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস মিশে থাকে। যাঁরা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন, তাঁদের মাথাব্যথা, বমিভাব এবং শ্বাসকষ্ট হতেই পারে। হঁাপানি বা সিওপিডি রোগীদের জন্য এই পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তঁাদের মতে, হাসপাতাল হল সুস্থ হওয়ার জায়গা। কিন্তু গেটের মুখেই যদি জীবাণুর উৎস থাকে, তবে রোগীদের ক্ষতস্থানে সেপটিক বা সেকেন্ডারি ইনফেকশন হওয়ার ভয় থাকে। নবজাতক শিশু এবং প্রসূতিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত আক্রান্ত হতে পারে।
এদিন হাসপাতালে উপস্থিত অনেকেই জানান, হাসপাতালের আউটডোর গেটের ঠিক পাশেই হাসপাতালের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এটি একদিন বা দু’দিনের সমস্যা নয়। প্রায় কয়েক মাস ধরেই এভাবেই সেখানে আবর্জনা জমে থাকছে। মাঝেমধ্যে পুরসভার তরফে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও, অনেক সময় দীর্ঘদিন পর্যন্ত আবর্জনা পড়ে থাকছে। ক্রমেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
৩০০ শয্যা বিশিষ্ট দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল এলাকায় অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য ও সাধারণ আবর্জনা তৈরি হয়। নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুরসভার তরফে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা। অভিযোগ, সপ্তাহখানেক অন্তর আবর্জনা তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নিয়মিত হচ্ছে না। এর ফলেই আউটডোরের সামনের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
এই সমস্যা নতুন নয় বলে দাবি স্থানীয়দের। বছরের পর বছর ধরে দিনহাটা হাসপাতালে এই একই পরিস্থিতি চলে আসছে বলে অভিযোগ। একদিকে রোগীরা অসুস্থ শরীরে চিকিৎসা নিতে আসছেন, অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে এমন পরিবেশ তাঁদের আরও অসুস্থ করে তুলছে। হাসপাতাল সুপার রণজিত মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুনরায় পুরসভার সঙ্গে কথা বলা হবে, যাতে দ্রুত আবর্জনা সরানো যায় এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যা না হয়।’ শুধুমাত্র আউটডোরের গেটের পাশেই নয়, হাসপাতালে প্রধান গেটের পাশেও বেশ কিছু জায়গায় স্তূপাকারে রাখা হচ্ছে জঞ্জাল। কোচবিহার জেলার সদর হাসপাতালের পর দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল সবথেকে বড় হাসপাতাল হলেও এই হাসপাতালের কোনও সঠিক নজর দেওয়া হয় না পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে।
