Dinhata | প্রচারে নেই হেভিওয়েটরা, চাপে বিজেপি

Dinhata | প্রচারে নেই হেভিওয়েটরা, চাপে বিজেপি

শিক্ষা
Spread the love


দিনহাটা: হাইভোল্টেজ দিনহাটা কেন্দ্রে ভোটযুদ্ধের পারদ চড়ছে। শাসকদলের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী উদয়ন গুহর বিপরীতে গেরুয়া শিবির এবার বাজি ধরেছে অজয় রায়কে। টিকিট পাওয়ার পর থেকেই অজয় আদা-জল খেয়ে ময়দানে নামলেও, পদ্ম শিবিরের অন্দরে এখন কাঁটা হয়ে বিঁধছে দলেরই দুই অভিজ্ঞ সেনাপতির অনুপস্থিতি। গত বিধানসভা নির্বাচনে নিশীথ প্রামাণিকের জয়ের নেপথ্যে থাকা দুই প্রধান কারিগর— অশোক মণ্ডল এবং দীপ্তিমান সেনগুপ্তকে এখন আর বিজেপির প্রচারে দেখা যাচ্ছে না। এই দুই হেভিওয়েট নেতার নিষ্ক্রিয়তা কি দিনহাটায় গেরুয়া শিবিরের জয়ের পথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়াবে? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

অশোক মণ্ডলের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। উত্তরবঙ্গের মাটিতে একসময় তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলের প্রথম বিজয়কেতন উড়েছিল। টানা ২৪ বছর কাউন্সিলার থাকার পর ২০০৬ সালে তিনি দিনহাটার প্রথম তৃণমূল বিধায়ক হন। পরবর্তীতে উদয়ন গুহ ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে আসায় কোণঠাসা হতে শুরু করেন অশোক। দলীয় সমীকরণে গুরুত্ব হারিয়ে ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১-এর উপনির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়েন। তবে উদয়নের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর থেকেই তিনি কার্যত অন্তরালে। তাঁর ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাস’ নিয়ে জল্পনা বাড়লেও অশোক বলছেন, ‘দল যেহেতু করি, দায়দায়িত্ব তো আছেই। প্রার্থী বাড়িতে এসেছিলেন, পরামর্শ দিয়েছি। নমিনেশন জমা পড়লে অবশ্যই প্রচারে নামব।’ তবে ভোটের দামামা বেজে গেলেও তিনি কেন এখনও মাঠের বাইরে, তার সদুত্তর মেলেনি।

অন্যদিকে, সমাজকর্মী হিসেবে বা ছিটমহল আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখ হিসেবে বেশি পরিচিত দীপ্তিমান বিজেপিতে যোগদান করলে তিনি দিনহাটার বিজেপি নেতৃত্বর মধ্যে অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। আর সে কারণেই ২০২১ সালের নির্বাচনে নিশীথ প্রামাণিকের জয়ের নেপথ্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন এই দীপ্তিমানই। সে বছর তাঁর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে নিশীথ উদয়নকে মাত্র ৫৭ ভোটে পরাজিত করেন। অথচ এবারের নির্বাচনে তাঁকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। অভিমানী সুরেই দীপ্তিমান বলেন, ‘গত বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটার মানুষকে যে আশ্বাস দিয়েছিলাম, দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তা রাখতে পারিনি। সেই ব্যর্থতার জন্য দলের উচিত ছিল মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া। দল তা করেনি, তাই নিজেকে সব কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে রেখেছি।’

অভিজ্ঞদের এই ক্ষোভ বা দূরত্ব সুকৌশলে কাজে লাগাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। যদিও বিজেপি প্রার্থী অজয় রায় ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে দাবি করেছেন, ‘সকলেই দলের সঙ্গে আছেন, সময়মতো সবাইকেই প্রচারে দেখা যাবে।’ কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিনহাটার মতো কঠিন আসনে যেখানে বুথ স্তরের সংগঠনই শেষ কথা বলে, সেখানে অভিজ্ঞ সেনাপতিদের ছাড়া যুদ্ধ জেতা বিজেপির পক্ষে কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *