প্রসেনজিৎ সাহা ও অমৃতা দে, দিনহাটা: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পর ওই পাথরের কারখানা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। আদৌ কি ওই কারখানার বৈধ অনুমতি ছিল? যদি না থাকে তাহলে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে ওই কারখানার কাজ চলছিল? আর চললেও তা নিয়ে প্রশাসন কেন কোনও ব্যবস্থা নিল না? আর তাতেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
যদিও ভিলেজ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কণিকা বর্মন বলেন, ‘ওই কারখানার মালিক আমার কাছে তিন বিঘা জমির চরিত্র বদলের জন্য নো অবজেকশন নিয়েছিলেন। তবে যে জমির জন্য নেওয়া হয়েছিল তার ওপরে বিদ্যুতের তার ছিল না। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে তবেই অনুমতি দিয়েছিলাম। বাকিটা কীভাবে হয়েছে তা জানি না। প্রশাসন এবিষয়ে পদক্ষেপ করুক।’ দিনহাটার (Dinhata) মহকুমা শাসক ভরত সিং বলেন, ‘ওই কারখানার অনুমতি ছিল কি না সে বিষয়ে তদন্ত করে পদক্ষেপ করা হবে।’
ভিলেজ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগ্নি পার্ট-২’এ নির্মীয়মাণ পাথরের কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রবিবার রাতে ঝন্টু পালের দিনহাটা থানায় দায়ের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যানেজার দীপু অধিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দিনহাটা থানার পুলিশ। তবে এখনও কারখানার মালিক বুবাই সাহা পলাতক বলে জানিয়েছেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত দেবনাথ। তাঁর খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
সোমবার বলরামপুর রোড রেললাইন সংলগ্ন কারখানার মালিক বুবাই সাহার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করতেই জানা গেল, তিনি বাড়িতে নেই। কেউ বললেন বাইরে রয়েছেন ফিরতে দেরি হবে। কেউ বললেন কোথায় গিয়েছেন জানা নেই। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই রাতেই ঘটনাস্থলে মিল মালিককে দেখেছিলেন। তারপর থেকে বুবাইয়ের কোনও খোঁজ মিলছে না। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, যদি তাঁর মিলের বৈধতা থাকে তাহলে তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না কেন?
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিপিএমের একদল প্রতিনিধি। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভ্রালোক দাস বলেন, ‘কীভাবে ১১ হাজার ভোল্টের তারের নীচ দিয়ে এভাবে কারখানা গড়া যেতে পারে। কীভাবে অনুমতি দেওয়া হল?’
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, পড়ে রয়েছে মৃত শ্রমিকদের আধপোড়া জুতো, গামছা, জলের বোতল। ঘটনাস্থল থেকে অদূরে থাকা শ্রমিকের সাইকেল। ঘটনাস্থলের ওপরেই রয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের তার। যে জমিতে এই পাথরের কারখানা হচ্ছে তার জমি যে একসময় চাষের জমি ছিল তা স্থানীয়রাই বলছেন। তবে জমির চরিত্র বদল করে যে এখানে কারখানা গড়া হচ্ছে তা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ সরকার বলেন, ‘এখানে পাথর ভাঙার কারখানা হবে আমরা জানতামই না। এমনকি এভাবে তারের নীচে যেসব উঁচু মেশিন লাগানো হয়েছে তার অনুমতি কীভাবে পেল তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে আমাদের।’ আরেক বাসিন্দা শ্যামল রায়ের কথায়, ‘এখানে কারখানার জন্য কোনও অনুমতিই নেই। আসলে, নিয়ম না মেনে কারখানা তৈরির জেরে এত বড় দুর্ঘটনা হল।’
এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন বিদ্যুৎ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রিিজওনাল ম্যানেজার সঞ্জয় গুরুদাস এবং ডিভিশনাল ম্যানেজার কল্যাণবর সরকার। তবে এই ধরনের কারখানা গড়ার জন্য বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে কোনওরকম এনওসি নেওয়া হয়নি বলেই রিিজওনাল ম্যানেজার জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁরা দিনহাটা থানায় কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
