দিনহাটা: জানুয়ারি থেকে প্রতিটি হাইস্কুলে শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। তবে এ মাসে স্টুডেন্টস উইক, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সহ নানা উপলক্ষ্যে ছুটির তালিকাও দীর্ঘ। স্বাভাবিকভাবেই ক্লাসের সংখ্যা খুব কম। অন্যদিকে, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জেরে গোটা ফেব্রুয়ারিই ছুটি কাটাতে হচ্ছে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের। এরপর যদি মার্চে ভোট ঘোষণা হয়, তাহলে সেই মাসেও কতদিন ক্লাস হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে স্কুলগুলির। এই পরিস্থিতিতে সিলেবাস শেষ করা নিয়ে সংশয়ে পড়ে গিয়েছে পড়ুয়া সহ ও শিক্ষকরা। ভরসা বাড়ছে টিউশন, অনলাইন ক্লাসের ওপর। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী লৌকতা রায়ের কথায়, জানুয়ারিতে ২০ দিন ক্লাস হয়েছে, তারপর থেকে স্কুল বন্ধই রয়েছে। কবে খুলবে বুঝতে পারছি না। এপ্রিলে প্রথম সিমেস্টার। স্কুল না খুললে পড়া হবে কখন আর সিলেবাসই বা শেষ হবে কখন। তাই বাড়িতে পড়ছি, আবার স্কুলের অনলাইন ক্লাসগুলিতে নজর রাখছি।
মূলত প্রথম সিমেস্টারের পরীক্ষা হয় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। সেক্ষেত্রে অন্যান্য বছর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মিলিয়ে বেশ কয়েকটি দিন ক্লাসের সুযোগ থাকে। প্রথম সিমেস্টারের সিলেবাস শেষ করা যায়। কিন্তু এবছর জানুয়ারি মাসে ক্লাস হলেও গোটা ফেব্রুয়ারিই বন্ধ থাকছে। এবং ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হলে মার্চেও ধারাবাহিক ক্লাস নিয়ে সংশয় রয়েছে। দিনহাটার জ্ঞানদাদেবী গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সমর্পিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘নানা কর্মসূচির কারণে জানুয়ারিতে ১৫-২০ দিন ক্লাস হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ফেব্রুয়ারিতে ক্লাস হবে না। ভোট মার্চে হলে আরও সমস্যা। এপ্রিলের আগে প্রথম সিমেস্টারের সিলেবাস শেষ করা সত্যিই চ্যালেঞ্জের। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি অনলাইন চ্যানেল রয়েছে, সেখানে নিয়মিত টাস্ক আপলোড করা হচ্ছে। সেখান থেকে পড়ুয়ারা কিছুটা সহযোগিতা পেতে পারে। যদিও আমাদের স্কুলে প্রান্তিক এলাকার ছাত্রছাত্রী বেশি। ফলে অনলাইনে সমস্যা থেকে যায়।’ দিনহাটা হাইস্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক জয়ন্ত চক্রবর্তীর কথায়, ‘এই অল্প সময়ে যদি তাড়াহুড়ো করে সিলেবাস শেষ করতে যাই, তাহলে ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধে হবে। তবে অনলাইন ক্লাস চলছে, তাতে ওরা উপকৃত হচ্ছে বলেই আশা করছি।’
বর্তমান সময়ে ছুটির পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে সমস্যার জন্য দায়ি করছেন অভিভাবকদের অনেকেই। তঁাদেরই মধ্যে রাজীব আহমেদের মন্তব্য, ‘এখন নানা ছুটির কারণে এমনিতেই স্কুলের ক্লাসের পরিমাণ কমেছে। তার ওপর বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষার কারণে একটানা স্কুল বন্ধ। এরপর ভেটের জন্যও স্কুল বন্ধ থাকলে তো হয়েই গেল। বাধ্য হয়ে টিউশনের ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে।’
