দিনহাটা: এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং সেই নিয়ে জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে একের পর এক চমকে যাওয়ার মতো কাণ্ড ঘটেছে রাজ্যজুড়ে। তাতে নবতম সংযোজন বুধবার গিতালদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নবনি গ্রামের ঘটনা। দিনহাটার মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হয়ে রমাকান্ত বর্মন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাঁকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে তাঁকে বাবা হিসেবে দেখিয়ে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন নয়ন বর্মন ও জীবন বর্মন নামে দুই ব্যক্তি। এই নিয়ে এর আগে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র দ্বারস্থ হন রমাকান্ত। তিনি সেই সময় বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপরও এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকায় রমাকান্তের ছেলে হিসেবে দেখানো হয়েছে নয়ন ও জীবনকে। এই নিয়ে এদিন বাধ্য হয়েই মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।
রমাকান্ত জানান, কর্মসূত্রে গত ১০ বছর ধরে তিনি পড়শি রাজ্য অসমে থাকেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তিনি। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে আগেই। তাঁর এক ছেলে থাকেন বেঙ্গালুরুতে। অন্যজন থাকেন গিতালদহের গ্রামের বাড়িতে। গত ১৬ ডিসেম্বর নিজের এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে বাড়ি ফেরেন রমাকান্ত। তাঁর বক্তব্য, ‘তখনই জানতে পারি, ওই দুজন বেনিয়ম করে আমার নাম ব্যবহার করে ফর্ম ফিলআপ করেছেন। কিছু না জানিয়ে বাবার নামের জায়গায় আমার নাম ব্যবহার করেছেন ওঁরা। এরপরই সংশ্লিষ্ট বিএলও-র দৃষ্টি আকর্ষণ করি। তবে তাতে কোনও ফল হয়নি। অগত্যা আজ মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হই।’
যদিও এদিন অভিযুক্ত জীবনকে এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে, তাঁর তরফে কোনও সাড়া মেলেনি। এ বিষয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট বিএলও আক্কাজ আলি বলেন, ‘রমাকান্ত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই অভিযোগ আমি গ্রহণ করেছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। পাশাপাশি, সন্দেহজনক বলে ওই দুই ফর্ম ফিলআপকারীকে চিহ্নিত করেছিলাম। এরপর যা করার তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ করবে।’
