সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি: ছয় মাসের সন্তানের মুখেভাত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল কয়েকদিন পরেই। ইচ্ছা ছিল, সন্তানের মুখে বাবাধাম আর তারাপীঠের প্রসাদ ছোঁয়াবেন। রাকেশের সেই ইচ্ছা আর পূরণ হল না। তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল তাঁর।
ধূপগুড়ি শহরের (Dhupguri) ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিলপাড়ার বাসিন্দা রাকেশ শর্মা গত শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের একদল পরিচিতের সঙ্গে রওনা দেন দেওঘরে বাবাধামের উদ্দেশে। সেখানকার পুজো দিয়ে গত রবিবার রাকেশ সহ পুরো দল পৌঁছায় তারাপীঠে। সেখানে পুজো দিয়ে তাঁদের বাড়ির পথ ধরার কথা ছিল।
অগ্নিকাণ্ডে রাকেশের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই বিছানা নিয়েছেন তাঁর বৃদ্ধা মা। এশিয়ান হাইওয়ের পাশে রাকেশের বাবার দোকান বন্ধ। ছয় মাসের শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘরবন্দি হয়েছেন রাকেশের স্ত্রী। খবর মেলার পরেই তারাপীঠের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাকেশের ছোট ভাই। বছর তেত্রিশের রাকেশের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমেছে শহরে।
এলাকায় রাখি নামে পরিচিত তরুণ পেশায় দোকান কর্মচারী এবং পরিচিত মুখ। এশিয়ান হাইওয়ের লাগোয়া এলাকায় ছোট থেকে বেড়ে ওঠা ওই তরুণ এলাকায় ভালো ছেলে বলেই পরিচিত ছিলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর ছয় মাসের সন্তানের মুখেভাত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। তার আগে দেওঘরে শ্রাবণের ‘কাওয়ার যাত্রায়’ গিয়েছিলেন রাকেশ। অতীতেও শ্রাবণ মাসে ‘কাওয়ার যাত্রায়’ গিয়েছিলেন তিনি। রবিবার তারাপীঠে পৌঁছানোর পর শেষবার বাড়ির সঙ্গে তাঁর কথাও হয়।
পরিবার সূত্রে খবর, এদিন রাকেশের সঙ্গী আলিপুরদুয়ারের একজনের মুখে প্রথম দুর্ঘটনার খবর পান পরিবারের সদস্যরা। এরপরেই প্রতিবেশী তিনজনকে নিয়ে তারাপীঠের উদ্দেশে রওনা দেন রাকেশের ভাই। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের তারাপীঠে পৌঁছানোর কথা। এদিকে মৃতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ধূপগুড়ি মহকুমা প্রশাসনের তরফে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
শহরের একটি স্যানিটারি আইটেমের শোরুমে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন রাকেশ। বছর দেড়েক আগে তাঁর বিয়ে হয়। রাকেশের আত্মীয়দের সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা তারাপীঠ পৌঁছে মরদেহ শনাক্ত করার পর ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর দেহ নিয়ে ফিরবেন পরিবারের সদস্যরা। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়।
রাকেশের প্রতিবেশী তথা পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং বলেন, ‘ভালো, ভদ্র, ঠাকুরভক্ত হিসেবেই পরিচিত ছিল রাকেশ। পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে তাঁর এই না থাকা বিপর্যয় ডেকে আনবে পরিবারে। আমরা সকলে মিলে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’
বঙ্গাব্দ হিসেবে শ্রাবণ মাস শেষ হলেও সোমবার ছিল বিহারি শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার। সেই হিসেবেই প্রতিবারের মতো এবারেও কাওয়ার যাত্রায় গিয়েছিলেন রাকেশ। এরপর এই ঘটনায় তাঁর মৃত্যু বিহারি সমাজেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

