শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: দৃশ্য সিনেমার মতো। বন্ধুদের নিয়ে জমে উঠেছিল মদের আসর। পাশেই চলছিল গানের অনুষ্ঠান। তা হঠাৎ ছত্রভঙ্গ করলেন স্ত্রী। চলল বেশ কিছুক্ষণের বিতণ্ডা। এর মধ্যেই মাংস রান্নার কারণ নিয়ে মদের আসরেই ক্ষিপ্ত স্ত্রীর ধারালো অস্ত্রের কোপ পড়ল স্বামীর মাথায়।
শনিবার গভীর রাতে ধূপগুড়ি ব্লকের (Dhupguri) উত্তর খট্টিমারি এলাকায় এক গানের অনুষ্ঠান চলাকালীন এক দম্পতির এই কাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় স্ত্রী পদবালা রায়ের আঘাতে আহত হয়েছেন স্বামী ভরত রায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভরত প্রায় রাতেই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রী পদবালার সঙ্গে ঝামেলা করতেন। লেগেই থাকত পারিবারিক বিবাদ। নয়ছয় করতেন সাংসারিক টাকাপয়সা। হাত বাড়াতেন স্ত্রীর ব্যক্তিগত টাকাতেও। এদিন রাতে বাড়িতে ছিলেন না পদবালা। সেই সুযোগে ভরত মাংস রান্না করে বন্ধুদের নিয়ে ওই গানের অনুষ্ঠানের আড়ালে মদের আড্ডা জমিয়েছিলেন। এরই মধ্যে খবর পান স্ত্রী পদবালা। ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় তখনই তড়িঘড়ি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছুটে যান স্বামীর মদের ঠেকে। সেখানেই তাঁদের দাম্পত্যকলহ পৌঁছোয় তুঙ্গে। তখন স্বামী ভরতের অজুহাত ছিল, জামাই ধ্রুব মাংস খেতে চেয়েছিলেন। তাই নিজে হাতে রান্না করে মাংস নিয়ে এসেছেন। এই অজুহাতের যুক্তি পাশ হয়নি স্ত্রী পদবালার কাছে। তখনই এক হাতে মাংসের গামলা নিয়ে এবং অন্য হাত দিয়ে স্বামীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার কোপ মারেন। এরপরই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে পড়ে যায় হুলুস্থুল। খবর পেয়ে জামাই ধ্রুব ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আহতকে উদ্ধার করে জামাই এবং ভরতের বন্ধুরা ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর ধূপগুড়ি থানার পুলিশও হাসপাতালে পৌঁছে যায়। ভরতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে আজ জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জামাই ধ্রুব রায় বলেন, ‘বাবা মদ্যপ অবস্থায় মাংস রান্না করে আসর জমিয়েছিলেন। সেটা বুঝতে পেরে মা ধারালো কাঁচি দিয়ে কোপ মারেন। পুরোটাই পারিবারিক ঘটনা।’
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। কিন্তু হাসপাতালে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
এটা পুরোটাই পরিবারিক সমস্যা বলে পদবালার স্বপক্ষে যুক্তি, ‘আমরা চেষ্টা করছি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সবটা মীমাংসা করার।’
