Devipur New Street | মেঠোপথ থেকে পিচ রাস্তা: দেবীপুরের চওড়া পথেই ছুটছে পূজা-অঞ্জুদের সাইকেল

Devipur New Street | মেঠোপথ থেকে পিচ রাস্তা: দেবীপুরের চওড়া পথেই ছুটছে পূজা-অঞ্জুদের সাইকেল

ব্লগ/BLOG
Spread the love


প্রথমবার এই গ্রাম এমন রাস্তা পেল। আগে মেঠোপথে চলাচল করতে খুব কষ্ট হত বাসিন্দাদের। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থে ৩ কিমি এই রাস্তা পেয়ে খুশি ৮ থেকে ৮০ সকলেই

কৌশিক দাস, ক্রান্তি: ঝাঁ চকচকে রাস্তা দিয়ে সাইকেল নিয়ে স্কুলের পথে যাচ্ছিল পূজা ওরাওঁ, অঞ্জু বেগম, কিরণ ওরাওঁরা। ওরা সকলেই রাজাডাঙ্গা পেন্দা মহম্মদ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। দেবীপুরের (Devipur New Street) নতুন গ্রাভেল রোডে স্বচ্ছন্দে স্কুলের পথে যাওয়ার সময় একগাল হেসে সকলে জানাল, প্রথমবার এমন রাস্তা পেলাম। আগে মেঠোপথ ধরে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হত। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের (North Bengal Growth Division) অর্থে ৩ কিমি এই রাস্তা পেয়ে খুশি ৮ থেকে ৮০ সকলেই।

বছরখানেক আগে রাস্তাটি নির্মাণ হয়। দেবীপুর ছাড়াও উত্তর মাঝগ্রাম, আনন্দপুর, ধলাবাড়ি, দুধিবস্তি মিলিয়ে অন্তত ১২ হাজার বাসিন্দা উপকৃত রাস্তার কারণে। তবে প্রশাসনের ইচ্ছেয় গ্রামবাসী এই রাস্তা পায়নি। বাসিন্দারা কার্যত ছিনিয়ে এনেছেন এই রাস্তা।

রাজাডাঙ্গা (Rajadanga) শাসকদলের অন্যতম ভোটব্যাংক। মালের বিধায়ক তথা অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বুলু চিকবড়াইককে দু’হাত তুলে ভোট দিয়ে এসেছেন এই এলাকার ভোটাররা। ভোটে জিতে দু’বার মন্ত্রী হওয়ার পর বাসিন্দাদের একটাই দাবি ছিল ঝাঁ চকচকে পাকা রাস্তা। সেই রাস্তাও হয় না। অবশেষে বহু আন্দোলন, লড়াই করে নিজেদের দাবি কার্যত আদায় করেছে জনগণ।

বাজারের মোড়ে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল স্থানীয় রহমান আলির সঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘কেন আমরা সুন্দর রাস্তা পাব না বলুন তো? আমরাও তো ভোট দিই। গ্রামের উন্নয়ন হবে না কেন। এখন রাস্তা হওয়ায় আমরা খুশি।’

দেবীপুরের এই রাস্তা আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে অক্সিজেন জোগাবে। বছরখানেক আগে রাস্তার দাবি নিয়ে শাসকদলকে যথেষ্ট বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল।

গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মিন্টু রায়ের বক্তব্য, ‘মন্ত্রীর কাছে আমরা গ্রামবাসীর তরফে রাস্তাটি নিয়ে দাবি রেখেছিলাম। তিনি আমাদের কথা রেখেছেন। কিছুদিনের মধ্যে জলের সমস্যাও মিটে যাবে।’

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে দেখা হল সুবোধ রায়ের সঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘কিছু চাষের জমি আছে। মাঠের ফসল গাড়ি করে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হত। কেনই বা নেবে না? জলকাদায় গাড়ি ঢোকাই সমস্যার ছিল। এখন সেই সমস্যা একেবারেই নেই।’ রহমান সাহেব বলেন, ‘আগে এই রাস্তায় গাড়ি তো দূরের কথা, টোটো পর্যন্ত আসতে চাইত না। এখন ঝকঝকে রাস্তায় ছেলেমেয়েরা কী সুন্দর সাইকেলে করে স্কুলে যাচ্ছে। দেখেও চোখ জুড়িয়ে যায়।’ দেবীপুরের চওড়া রাস্তা গ্রামের সকলের মুখেই যেন চওড়া হাসি ফুটিয়েছে। গ্রামের ভোলবদল করে দিয়েছে যেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *