Devdas Smriti Mela | শরৎস্মৃতিতে মজেছে কালনার হাতিপোতা গ্রাম, দেবদাস মেলায় ৭ কেজির পান্তুয়া ঘিরে তুঙ্গে উন্মাদনা

Devdas Smriti Mela | শরৎস্মৃতিতে মজেছে কালনার হাতিপোতা গ্রাম, দেবদাস মেলায় ৭ কেজির পান্তুয়া ঘিরে তুঙ্গে উন্মাদনা

শিক্ষা
Spread the love


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন ট্র্যাজেডি ‘দেবদাস’ আজও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন। সেই উপন্যাসের চরিত্রগুলি কাল্পনিক নাকি বাস্তব, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পূর্ব বর্ধমানের কালনা ১ ব্লকের হাতিপোতা গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করেন, এই জনপদই ছিল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Saratchandra Chattopadhyay) কালজয়ী উপন্যাসের অন্যতম প্রেক্ষাপট। সেই বিশ্বাস আর আবেগকে সম্বল করেই গত ২৬ বছর ধরে এই গ্রামে আয়োজিত হয়ে আসছে ‘দেবদাস স্মৃতি মেলা ও উৎসব’ (Devdas Smriti Mela)। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এবং তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ। আগামী পাঁচ দিন ধরে চলবে এই বর্ণাঢ্য উৎসব, যা ঘিরে এখন সাজ সাজ রব গোটা নান্দাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

হাতিপোতা গ্রামের ভৌগোলিক গুরুত্ব ও উপন্যাসের যোগসূত্র নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে অনেক প্রাচীন কাহিনী। প্রবীণদের দাবি, এই গ্রামের তৎকালীন জমিদার ভুবনমোহন চৌধুরীর দ্বিতীয় স্ত্রী ‘পার্বতী’ই ছিলেন উপন্যাসের সেই বিষাদময়ী নায়িকা। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নদীপথে ভ্রমণের সময় এই গ্রাম থেকেই তাঁর উপন্যাসের রসদ খুঁজে পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। আজও গ্রামের ভাঙাচোরা জমিদার বাড়িতে সেই পুরনো দিনের আংশিক স্মৃতি পর্যটক ও সাহিত্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। উৎসব কমিটির পক্ষে রেজাউল মোল্লা জানান, উপন্যাসের শেষ অনুরোধ “তাহার জন্য একটু প্রার্থনা করিও”—এই আর্তিকেই পাথেয় করে তাঁরা প্রতি বছর শরৎচন্দ্রের প্রয়াণ দিবসে এই মেলার আয়োজন করেন। এ বছর মেলার বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে অভিনেতা তথা সাংসদ দেব-এর উপস্থিতি, যার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে আপামর গ্রামবাসী।

তবে দেবদাস মেলার সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে এর রসনা তৃপ্তিতে। মেলা প্রাঙ্গণ এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘মিষ্টিময়’। সাধারণ মেলায় যে আকারের মিষ্টি দেখা যায়, এখানে তার ধারণা আমূল বদলে দিয়েছেন কারিগররা। নদীয়া ও বর্ধমানের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা তৈরি করেছেন বিশালাকার বা পেল্লাই সাইজের সব মিষ্টি। খরিদ্দারদের ভিড় সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ২ হাজার টাকা পিস দরের ‘নোড়া পান্তুয়া’র দোকানে। কারিগরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি মাত্র বড় মিষ্টি তৈরি করতে প্রায় ৪ কেজি ছানা লাগে, যা রসে ভেজানোর পর ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৭ কেজিতে। এছাড়া মেলায় ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যের দানবীয় আকারের মিষ্টান্নও দেদার বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই ধরণের পেল্লাই মিষ্টি দেখার কৌতূহল থেকেই দূর-দূরান্তের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন মেলায়। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেও বিক্রির ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।

কথাসাহিত্যিকের অমর সৃষ্টির হাত ধরে হাতিপোতা গ্রাম আজ বাংলার পর্যটন মানচিত্রে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছে। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কথায়, শরৎচন্দ্র এই গ্রামকে ধন্য করেছেন এবং তাঁর লেখনীর গুণেই হাতিপোতা আজ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আগামী পাঁচ দিন এই গ্রাম শুধু মেলা প্রাঙ্গণ নয়, বরং সাহিত্যিক চর্চা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক মিলনস্থলে পরিণত হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *