মালবাজার: ডুয়ার্সের মানবিক মুখ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ (Bike Ambulance Dad) তথা পদ্মশ্রী প্রাপক করিমুল হক (Karimul Haque)। এবার জলপাইগুড়ি জেলার ধালাবাড়ির এই নিঃস্বার্থ সমাজসেবীর জীবন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কাহিনি ফুটে উঠতে চলেছে রূপোলি পর্দায়। তৈরি হচ্ছে তাঁর বায়োপিক। আর এই সিনেমায় করিমুল হকের মতো এক আদ্যোপান্ত লড়াকু ও মানবিক চরিত্রে অভিনয় করছেন টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা দেব (Dev)।
ইতিমধ্যেই ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে ছবিটির শুটিং। সোমবার সকাল থেকেই মেটেলি ব্লকের কিলকোট চা বাগানের শ্রমিক মহল্লায় শুটিংয়ের কাজ চলেছে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও শুটিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিনেমার দৃশ্যগুলিকে বাস্তবসম্মত রূপ দিতে ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগান, পাহাড়ি নদীঘাট এবং গ্রামীণ মেঠো পথগুলিকে শুটিংয়ের লোকেশন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
করিমুল হকের জীবনকাহিনি যেকোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। নিজের একটি মোটর বাইককে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তরিত করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রত্যন্ত এলাকার মুমূর্ষু ও অসুস্থ মানুষদের বিনা খরচে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে আসছেন। প্রবল আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই নিরলস ও নিঃস্বার্থ সেবা কখনও থেমে থাকেনি। মানবতার এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্যই তিনি সম্মাননীয় ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ রাজ্য ও দেশের নজর কেড়েছে।
ছবির প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বায়োপিক শুধু একজন সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্প নয়, বরং এটি মানবতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অসামান্য অনুপ্রেরণামূলক দলিল। মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্যবোধের যে নিদর্শন তিনি তৈরি করেছেন, তা সেলুলয়েডের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই ছবির মূল লক্ষ্য।
নিজের এলাকার এক সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে সিনেমা তৈরি হওয়ার খবরে ডুয়ার্সবাসীও দারুণ উচ্ছ্বসিত। শুটিংয়ের সাক্ষী থাকতে বিভিন্ন জায়গায় ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা। করিমুল হকের এই অসামান্য জার্নি পর্দায় দেখতে এখন মুখিয়ে রয়েছেন সিনেমাপ্রেমীরা।
