Dementia | ডিমেনশিয়া  

Dementia | ডিমেনশিয়া  

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: চেনা মুখ ভুলে যাওয়া, নিজের পরিচয় হারানো, স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয়ে পড়া- এ যেন নিঃশব্দে জীবন্ত অবস্থাতেই মৃত্যুর মতো। এই বাস্তবতা শুধু ব্যক্তিকে নয়, তাঁর পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে তোলে। ডিমেনশিয়া মানেই ‘মাথা শুকিয়ে গিয়েছে’- এই ভ্রান্ত ধারণা এবং কার্যকর চিকিৎসার অভাবে অনেকেই অসহায়ভাবে প্রিয়জনের মলিনতা ও মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দিন কাটান। অথচ গবেষণায় জানা গিয়েছে, প্রতি ১০০ জন ডিমেনশিয়া (Dementia) রোগীর মধ্যে অন্তত ২০ জনের রোগ নিয়ন্ত্রণযোগ্য, এমনকি নিরাময়যোগ্য, যদি সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা যায়। লিখেছেন শিলিগুড়ির মিত্র’স মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের নিউরোলজিস্ট ডাঃ এমএম শািমম।

ডিমেনশিয়া এমন এক রোগ যাতে মানুষ ভুলে যান, দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, পরিচিত মুখ চিনতে পারেন না, নিজের নাম মনে রাখতে পারেন না, রাস্তা ভুলে যান, গণনা করতে পারেন না, জামাকাপড় পরতেও অসুবিধা হয়। কখনো-কখনো শিশুর মতো ব্যবহার করেন, চোখের লজ্জা হারিয়ে ফেলেন, কেউ কেউ বেশি বয়সে পাগলামির মতো আচরণও করেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ও তাঁদের পরিবার নিঃশব্দে গ্রাস করা এই রোগের যন্ত্রণা ভোগ করছেন। গবেষণা সতর্ক করছে, ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতি ৫ জনে ১ জন হতে পারেন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। স্মৃতি হারিয়ে ফেলা শুধু একজন মানুষের নয়, একটি সম্পূর্ণ জীবনের মুছে যাওয়া- এ এক ভয়াবহ, নীরব মহামারি। তাই তো সদ্য পেরিয়ে আসাস বিশ্ব অ্যালজাইমার্স ডে’র থিম ছিল, ‘ডিমেনশিয়া নিয়ে প্রশ্ন করুন, অ্যালজাইমার নিয়ে প্রশ্ন করুন।’

গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, বহু ডিমেনশিয়া রোগীর মধ্যে থাকে অন্যান্য অসুস্থতা, যা নিরাময় করলে ডিমেনশিয়ার উপসর্গও কমে। এই অবস্থাকে বলে ডিমেনশিয়া প্লাস।

লক্ষণ

  • পরিচিত মুখ ভুলে যাওয়া
  • নিজের নাম, ঠিকানা বা তারিখ মনে না রাখা
  • একই কথা বারবার বলা
  • রাস্তা ভুলে যাওয়া বা দিকনির্দেশ বুঝতে না পারা
  • দৈনন্দিন কাজ (যেমন জামাকাপড় পরা, রান্না করা) করতে অসুবিধা
  • হিসাব রাখতে না পারা বা টাকাপয়সার জটিলতা
  • মেজাজের পরিবর্তন, অকারণ রাগ বা সন্দেহপ্রবণতা
  • হঠাৎ শিশুসুলভ বা অস্বাভাবিক আচরণ
  • সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া
  • জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা বা ভুল জায়গায় রাখা
  • বাড়ি থেকে হঠাৎ বেরিয়ে পড়া বা পথ হারিয়ে ফেলা
  • হঠাৎ চিৎকার, রাগ বা অস্থিরতা শুরু হওয়া

রোগটি কি প্রতিরোধযোগ্য

খুব কার্যকর না হলেও কিছু উপায় নিশ্চয়ই আছে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করলে ডিমেনশিয়াকে আটকানো বা অন্তত তার তীব্রতা কমানো সম্ভব। যেমন –

 আজীবন শিক্ষা ও মানসিক সক্রিয়তা বজায় রাখা : নতুন কিছু শেখা, বই পড়া বা নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা যায়। এটি কগনিটিত রিজার্ভ (মাথার স্মৃতিভাণ্ডার) তৈরি করে, যা বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে।

নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন : হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম রক্তনািলকে সুস্থ রাখে, মানসিক অবনতি ধীর করে এবং নিউরোনের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা : একাকিত্ব ডিমেনশিয়ার একটি বড় ঝুঁকি। পরিবার-বন্ধুর সঙ্গে মেলামেশা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ডিপ্রেশন ও হাইপারটেনশনের ঝুঁকি কমায়।

হৃদযন্ত্র ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া : হাইপারটেনশন, স্থূলতা, ডায়াবিটিস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখলে মস্তিষ্কের রক্তনালি সুস্থ থাকে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস : নির্দিষ্ট কোনও খাবার বা সাপ্লিমেন্ট ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে প্রমাণিত না হলেও, মেডিটারেনিয়ান ডায়েটের মতো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিক ও হৃদরোগজনিত স্বাস্থ্যের উন্নতির মাধ্যমে কগনিশনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়ানো : ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মাথায় আঘাত এবং বায়ু দূষণ থেকে নিজেকে দূরে রাখা জরুরি।

ইন্দ্রিয় সক্রিয় রাখুন : নিজের পাঁচ ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় রাখা খুবই জরুরি, যাতে নতুন তথ্য মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে। ছানি বা অন্যান্য কারণে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কানে কম শোনার মতো সমস্যার সঠিক চিকিৎসা করানো উচিত। এসব সমস্যার সমাধান মস্তিষ্ককে নতুন অভিজ্ঞতা ও তথ্য গ্রহণে সাহায্য করে, যা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

সবমিলিয়ে রোগটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা না গেলেও সচেতন জীবনযাপন এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। তাই সময় থাকতে সচেতন হন। ডিমেনশিয়া মানেই জীবন শেষ নয়, সচেতনতাই প্রতিরোধ এমনকি রোগ মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *