উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন এক ঘটনার সাক্ষী থাকল হিমাচলপ্রদেশের রাজধানী সিমলা (Shimla)। বুধবার রাতভর চলল দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ। একপক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ, অন্যপক্ষে কংগ্রেস শাসিত হিমাচলপ্রদেশ পুলিশ (Delhi vs Himachal Police)। যুব কংগ্রেসের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে দুই বাহিনীর এই মুখোমুখি সংঘাত এখন জাতীয় রাজনীতির হট টপিক।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ (AI Affect Summit) কেন্দ্র সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ‘শার্টলেস’ হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন একদল যুব কংগ্রেসকর্মী (Youth Congress shirtless protest)। এই ঘটনায় দিল্লির একটি থানায় মামলা রুজু হয়। অভিযুক্তদের খোঁজে দিল্লি পুলিশের একটি দল হিমাচলপ্রদেশে পৌঁছায়। বুধবার সকালে সিমলার একটি রিসোর্ট থেকে সৌরভ, সিদ্ধার্থ এবং আরবাজ নামের তিন যুব কংগ্রেসকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসল নাটকের শুরু হয় এরপরই। হিমাচল পুলিশ অভিযোগ তোলে, দিল্লি পুলিশ স্থানীয় থানাকে না জানিয়েই অভিযুক্তদের তুলে নিয়ে গেছে। পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং যথাযথ নথিপত্র ছাড়াই অভিযান হয়েছে এই অভিযোগ তুলে সিমলা পুলিশ দিল্লি পুলিশের অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রীতিমতো ‘অপহরণ’-এর মামলা রুজু করে।
দিল্লি পুলিশের কনভয় যখন অভিযুক্তদের নিয়ে রওনা দিচ্ছিল, তখন মাঝপথে দফায় দফায় ব্যারিকেড তৈরি করে তাদের পথ আটকায় হিমাচল পুলিশ। কানলোগ এবং শোগি সীমান্তে দুই রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধস্তাধস্তির উপক্রম হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হিমাচল পুলিশের এক আধিকারিক ধমকের সুরে বলছেন, ‘সকাল থেকে আইনি কাগজ চাইছি, কিছুই দেখাতে পারেননি। ট্রানজিট রিমান্ড কোথায়?’
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গভীর রাতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনে অভিযুক্তদের পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ড পাওয়ার পরও দিল্লি পুলিশকে রেহাই দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। সিমলা পুলিশ দাবি করে, দিল্লি পুলিশের একাংশকে তদন্তের খাতিরে ওখানেই থেকে যেতে হবে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাঁরা কোনও সদস্যকেই পেছনে ফেলে যাবেন না।
অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে একটি মেমো ও প্রয়োজনীয় নথি হস্তান্তরের পর দিল্লি পুলিশের কনভয়কে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকের পর দিল্লি অভিমুখে রওনা দেয় ওই টিম।
এই ঘটনা কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতকে ফের উসকে দিয়েছে। এর আগে দিল্লির ‘হিমাচল সদন’-এ তল্লাশি চালিয়েছিল দিল্লি পুলিশ, যার কড়া সমালোচনা করেছিলেন হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। হিমাচল পুলিশের দাবি, তাঁরা আইন মেনে পদ্ধতিগত ত্রুটির প্রতিবাদ করেছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের যুক্তি— তাঁরা আইন মেনেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করেছে।
সিমলার আদালতে বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হওয়ার কথা। এই ‘পুলিশ বনাম পুলিশ’ সংঘাত আগামী দিনে দেশীয় কাঠামোয় নতুন কোনও আইনি বিতর্কের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
