উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের সকালে ফের বোমাতঙ্ক রাজধানী দিল্লিতে (Delhi Colleges Bomb Risk)। সোমবার সকালে দিল্লির অন্তত ৯টি নামী স্কুলে ইমেল পাঠিয়ে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইমেলে দাবি করা হয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ১১ মিনিটে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। হুমকিবার্তা পাওয়ার পরই স্কুলগুলোতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দ্রুত স্কুল ভবনগুলি খালি করে পড়ুয়াদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। নাশকতার এই হুমকির নেপথ্যে ‘খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’ (Khalistan Nationwide Military)-র হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দিল্লির একাধিক নামী স্কুলের অফিশিয়াল ইনবক্সে হুমকি মেল পৌঁছায়। সেখানে লেখা ছিল, “আফজল গুরুর স্মৃতিতে দিল্লিকে খলিস্তান বানাব। দুপুর ১টা ১১ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটবে।” ইমেলের নীচে প্রেরকের জায়গায় লেখা ছিল ‘খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’। শুধুমাত্র স্কুলই নয়, ইমেলে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের সংসদ ভবনও (Parliament Assault Risk) উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, “পঞ্জাবই হলো খলিস্তান।”
তালিকায় কোন কোন স্কুল? হুমকি পাওয়া স্কুলগুলোর তালিকায় রয়েছে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের লোরেটো কনভেন্ট, রোহিনীর ভেঙ্কটেশ্বর গ্লোবাল স্কুল, শ্রীনিবাসপুরী ও নিউ ফ্রেন্ডস কলোনির কেমব্রিজ স্কুল, সাদিক নগরের দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল, আইএনএ-র ডিটিইএ স্কুল এবং নিউ রাজিন্দর নগরের মানবস্থলী স্কুলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খবর পাওয়া মাত্রই দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড স্কুলগুলোতে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
আতঙ্ক বনাম পুলিশের ভূমিকা: গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে। এর মধ্যেই বারবার এই ধরনের ইমেল আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মধ্যে। যদিও গত ২৯ জানুয়ারি এবং তার আগে দ্বারকা আদালত ওড়ানোর যে হুমকি মেল এসেছিল, সেগুলি সবই পরবর্তীকালে ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে দিল্লির পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, প্রতিটি হুমকিকেই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সাইবার সেল কাজ শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও, নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানীর নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
