নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণের (Delhi air air pollution) অবনতি তো নয়, যেন জাতীয় সংকট হয়ে গিয়েছে। বাতাসের মান সূচক (একিউআই) ‘বিপজ্জনক’ স্তরে থাকায় জনজীবন ও জনস্বাস্থ্য পড়ে গিয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ইতিমধ্যে ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’ (গ্র্যাপ-৪) কার্যকর করা হয়েছে। যদিও বুধবার দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে কড়া মনোভাব দেখাল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলিকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ এবং ‘অ্যাড হক’ বা সাময়িক বলে আদালত তীব্র সমালোচনা করেছে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ হিসাবে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির ৯টি গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভারী যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে নিঃসরণ কমানো যায়। একইসঙ্গে আদালত আইনি সুরক্ষা তুলে নিয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ সমস্ত যানবাহনের। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘সরকার যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে অক্ষম।’ অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি সরকার ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ সরকারি ও বেসরকারি কর্মীর জন্য ‘বাড়ি থেকে কাজ’ বাধ্যতামূলক করেছে। শ্রমমন্ত্রী কপিল মিশ্র জানিয়েছেন, গাড়ির ধোঁয়া কমাতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি দূষণে কাজ হারানো নিবন্ধিত নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করা হয়েছে।
দূষণ সংকটের মুহূর্তে ভারতের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পড়শি চিন। নয়াদিল্লির চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং জানিয়েছেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে চিনকেও অতীতে একইরকম ধোঁয়াশা ও দূষণের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। গত একদশকে বেজিং যেভাবে তাদের বায়ুর গুণমান পুনরুদ্ধার করেছে, সেই অভিজ্ঞতা ও কারিগরি কৌশল তারা ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহী। দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, তারা শীঘ্রই এই বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শমূলক বার্তা ধাপে ধাপে ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নেবে।
