বর্ধমান: অনেক চেষ্টা ও আইনি লড়াইয়ের পর শেষ রক্ষা হলো না। বিজেপির তোলা ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। শনিবার প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের কালনা ব্লকের হাটকালনা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তি মণ্ডল এবং পূর্বস্থলীর মেড়াতাল পঞ্চায়েতের প্রধান সন্তোষী দাসের নাম বাদ গিয়েছে। তালিকায় তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ (Deleted voter) শব্দটি স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত এই দুই পঞ্চায়েতের প্রধানের নাম বাদ যাওয়ায় জেলা রাজনীতিতে তীব্র অস্বস্তিতে শাসকদল (Voter Record Controversy)।
বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু গত ২৭ অক্টোবর ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হতেই এই দুই প্রধানের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, শ্রাবন্তি মণ্ডল ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে আসা এক দম্পতিকে নিজের বাবা-মা সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতীয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন। একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল সন্তোষী দাসের বিরুদ্ধেও। সে সময় দুই প্রধানই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
শনিবার কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা সামনে আসতেই দেখা যায়, শুধু দুই প্রধানই নন, তালিকায় নাম নেই কালনা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অনিল বোসেরও। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা হাটকালনার প্রধান শ্রাবন্তি মণ্ডলকে প্রশ্ন করলে তিনি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ, তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং এক সাংবাদিকের ফোন পর্যন্ত কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর এই আচরণে এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষ এই জয়কে সত্যের জয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “মালদার লাভলি খাতুনের মতোই এই দুই প্রধানও যে বিদেশি নাগরিক, তা আজ প্রমাণ হয়ে গেল। আমরা শুধু নাম কাটায় সন্তুষ্ট নই, অবৈধভাবে জনপ্রতিনিধি হওয়ার অপরাধে তাঁদের দ্রুত পদ খারিজের দাবি নিয়ে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হব।”
অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দলীয় সূত্রের খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি পথে হাঁটা হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনের আগে খোদ পঞ্চায়েত প্রধানদের নাগরিকত্ব নিয়ে এই বিতর্ক কালনা ও পূর্বস্থলী এলাকায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
