Debasree Roy | রাজনীতির অন্দরমহল থেকে ক্যামেরার ফোকাসে প্রত্যাবর্তন: দুই নৌকোয় পা দেওয়ার ‘মাশুল’ নিয়ে অকপট দেবশ্রী

Debasree Roy | রাজনীতির অন্দরমহল থেকে ক্যামেরার ফোকাসে প্রত্যাবর্তন: দুই নৌকোয় পা দেওয়ার ‘মাশুল’ নিয়ে অকপট দেবশ্রী

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ১৯৬৬ সাল— শিশুশিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু। তারপর ছয় দশকের দীর্ঘ পথ পরিক্রমা। দেবশ্রী রায় (Debasree Roy) মানেই বাংলা ছবির এক বর্ণময় অধ্যায়। তবে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় সেই চেনা দেবশ্রী যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছিলেন। ২০২৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে দাঁড়িয়ে, অভিনেত্রী (Actress) আজ এক নতুন উপলব্ধিতে স্থির— ‘রাজনীতি আর অভিনয়— একই সাথে দুই নৌকোয় পা দিলে কোনো একটা ডুববেই।’

২০১১ সালে তৃণমূলের হয়ে রাজনীতির (Politics) ময়দানে নেমে টানা দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে গিয়েই নিজের ‘অভিনয়সত্তা’কে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা এখন আক্ষেপের সুরে ঝরে পড়ছে তাঁর গলায়। দেবশ্রীর কথায়, “বেশি মন দিতে গিয়েছিলাম রাজনীতিতে, তাই অভিনয়ের প্রভাব পড়েছিল।”

অভিনেত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি, গত ১৫ বছরে তিনি যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছেন, তা তাঁকে চরম হতাশ করেছে। তৃণমূল ছেড়ে বেরোনোর নেপথ্যে ছিল সেই বিরক্তি ও দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ। তাঁর কথায়, অযোগ্য মানুষকে পদে বসিয়ে দিলে যে সমস্যা তৈরি হয়, তা গত দেড় দশকে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।

রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে এখন ফের পুরনো ছন্দে ফিরছেন অভিনেত্রী। তবে কেবল ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, টলিউডের বর্তমান দুরাবস্থা নিয়েও তিনি চিন্তিত। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ কিংবা পাপিয়া অধিকারীর মতো শিল্পীরা এখন প্রশাসনিক স্তরে থাকায়, ইন্ডাস্ট্রি আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে— এমনই প্রত্যাশা দেবশ্রীর।

তিনি মনে করেন, একই সঙ্গে শিল্পীসত্তা ও রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। টলিউডের অনেক সহকর্মী যখন রাজনীতির মোহজালে জড়িয়েছেন, তখন দেবশ্রী দূর থেকে সেই মোহভঙ্গের সাক্ষী থেকেছেন। এখন তাঁর মূল লক্ষ্য একটাই— ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের কোন্দল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে, আবার নিজের সেরা অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে ফিরে আসা।

২০২৬-এর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে, দেবশ্রী রায়ের এই উপলব্ধি কি টলিউডের অন্য শিল্পীদের জন্য সতর্কবার্তা? নাকি এটি এক প্রাক্তন নেত্রীর নতুন করে নিজেকে চেনার গল্প? উত্তর দেবে সময়। তবে এটুকু স্পষ্ট, রুপোলি পর্দার ‘চুমকি’ আবার নিজের আসল ঠিকানায় ফিরতে মরিয়া।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *