উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে দানা বেঁধেছিল অসন্তোষ। তিনবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান নেতা অসিত মজুমদার (Asit Majumdar)। এমনকি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। তবে বুধবার ছবিটা বদলে গেল। সোজা গিয়ে অসিতবাবুর বাসভবনে হাজির হলেন এবারের ভোটে চুঁচুড়ায় (Chinsurah) তৃণমূলের প্রার্থী তরুণ তুর্কী দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। আর এই বৈঠকের পরেই বরফ গলার ইঙ্গিত মিলল হুগলির রাজনীতিতে।
বৈঠক শেষে দেবাংশু জানান, অসিত মজুমদার চুঁচুড়া এলাকাটিকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তাঁর সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করেই নির্বাচনি ময়দানে নামতে চান তিনি। দেবাংশুর কথায়, ‘অসিতদা আমার অভিভাবক। কীভাবে প্রচার করা উচিত, সেই সাজেশন নিতেই এসেছি। উনি যা যা বলেছেন সব নোট করে নিয়েছি। দু’দিন পর আবার আসব প্রয়োজনে ডায়েরি নিয়ে।’
অন্যদিকে, একদিন আগেও বিমর্ষ থাকা অসিত মজুমদারকে বেশ খোশমেজাজে দেখা গিয়েছে। দেবাংশুকে ‘সন্তানসম’ সম্বোধন করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। টিকিট না পাওয়ার অভিমান সরিয়ে রেখে বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, “দেবাংশু অনুরোধ করেছে, আমি ওর পাশে আছি। চুঁচুড়া সহ গোটা রাজ্যে এবার আরও বড় খেলা হবে।’
সূত্রের খবর, এদিন আসার আগে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ফোনে কথা হয়েছে অসিতবাবুর। সেই কথোপকথনই মানভঞ্জনের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে চুঁচুড়ায় টিকিট না পেয়েও দলের হয়েই ময়দানে নামার অঙ্গীকার করলেন ‘অভিমানী’ অসিত। এখন দেখার, দেবাংশু-অসিত জুটি আসন্ন নির্বাচনে চুঁচুড়ার দুর্গে পদ্ম শিবিরকে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
