সাগর বাগচী, আঠারোখাই : গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বসানো হয়েছে মেলা। সেখানে রমরমিয়ে চলছে জুয়ার আসর। অথচ তা নাকি জানা নেই প্রধানের! এমনই সব আজব কাণ্ডকারখানা চলছে শিলিগুড়ি মহকুমার আঠারোখাইয়ে। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পুলিশ অবশ্য পদক্ষেপ করেছে।
শুক্রবার থেকে আঠারোখাই সর্বজনীন খেলার মাঠে শারদীয়া সম্প্রীতি মেলা শুরু হয়েছে। আয়োজক তৃণমূল পরিচালিত আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। সরকারি মেলায় দেদারে চলছে জুয়া। শনিবার দুপুরে মাঠের প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে মেলার একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছে দেখা গেল, বেশ কিছু স্টলে জুয়ার আসর শুরুর প্রস্তুতি চলছে। আচ্ছাদনের ফাঁক দিয়ে জুয়ার বোর্ড দেখা যাচ্ছিল। ওই স্টলগুলি যাঁরা চালান, তাঁরা কড়া নজর রাখছেন। কয়েকজনকে ভেতরে বসে থাকতেও দেখা গেল। নজর এড়াতে পরিকল্পিতভাবে ওই স্টলগুলোর আশপাশে রাখা রয়েছে নাগরদোলা, ব্রেকডান্স ইত্যাদি।
মাটিগাড়া থানার পুলিশ শুক্রবার রাতে জুয়ার আসর বন্ধে অভিযান চালিয়েছিল। তবে কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা আটক করা হয়নি। যদিও আঠারোখাইয়ের প্রধান যূথিকা রায় খাসনবিশের দাবি, ‘এই বছর কোনও জুয়ার আসর বসেনি। আপনারা এসে দেখে যান।’ খানিকটা রেগেই একথা বললেন তিনি। কিন্তু পুলিশ যা বলছে, তাতে প্রধানের দাবি ধোপে টিকছে না। আইসি অরিন্দম ভট্টাচার্য স্পষ্ট বলেছেন, ‘মেলায় জুয়ার আসর বসতে দেওয়া হবে না। সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
শিবমন্দিরের মতো এলাকায় মেলার মধ্যে জুয়ার আসরের অনুমতি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ কীভাবে দিল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। সূত্রের খবর, যাঁরা মেলা বসান তাঁরা জুয়ার কারবারিদের থেকে মোটা টাকা তোলেন। টাকা না পেলে জুয়ার আসর বসাতে দেওয়া হয় না। অভিযোগ, এবারও নাকি মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে, যে কারণে জুয়ার রমরমা।
এ বিষয়ে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের বক্তব্য, ‘আঠারোখাই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়, বিএড কলেজ, স্কুল রয়েছে। শিক্ষিত লোকেদের বাস। এমন একটি জায়গায় মেলায় জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। এটা সত্যি লজ্জার। এর আগেও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ সামনে এসেছিল। প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত।’ বিধায়কের তোপ, ‘ওই মেলা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ওঠে, যার কোনও হিসেব নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু লোকের মধ্যে টাকার ভাগবাঁটোয়ারা হয়। মেলায় আয়ব্যয়ের হিসেব নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের।’
মোটা টাকা লেনদেনের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি জবাব দেননি যূথিকা। তাঁর উদ্ভট বক্তব্য, ‘সব কথা আমি ফোনে বলব না। আমি বলব একটা, আপনি লিখবেন অন্য।’
