Darjeeling | দুর্যোগে পাহাড়ে ক্ষতি ৯৫০ কোটি টাকা

Darjeeling | দুর্যোগে পাহাড়ে ক্ষতি ৯৫০ কোটি টাকা

শিক্ষা
Spread the love


রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : ৪ অক্টোবরের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে পাহাড়ে ৯৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সোমবার এমন রিপোর্ট পেশ হয়েছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) সাধারণ সভায়। বুধবার দার্জিলিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এই রিপোর্ট তুলে দেওয়া হবে বলে এদিনের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পাহাড়ের এই দুর্যোগকে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার যাতে বিপর্যয় ঘোষণা করে, সেই সংক্রান্ত দাবি জানানোর প্রস্তাবও সভায় গৃহীত হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া নিম্নচাপের অভিমুখ পশ্চিমের পরিবর্তে উত্তরে বদলে যাওয়ায় গত ৪ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টি হয় দার্জিলিং পাহাড়ে। প্রচুর ঘরবাড়ি ধসে যায়। পাহাড়েই মৃত্যু হয় ২৩ জনের। মিরিক সহ একাধিক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দুধিয়ায় বালাসন নদীর ওপরে থাকা লোহার সেতু সহ বেশ কয়েকটি সেতু ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জিটিএ জরুরি সাধারণ সভা ডেকেছিল মঙ্গলবার। কিন্তু মঙ্গলবার যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে থাকবেন তাই জিটিএর বৈঠক একদিন এগিয়ে সোমবার করা হয়।

এদিনের বৈঠকে শাসক-বিরোধী, সমস্ত সদস্যই অংশ নিয়েছিলেন। একমাত্র আলোচনার বিষয় ছিল, পাহাড়ের দুর্যোগ মোকাবিলা। বৈঠকে প্রত্যেকেই এই বিপর্যয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতার দাবি তুলেছেন। বৈঠকে জিটিএ-র তরফে প্রাথমিকভাবে মিরিক, সৌরিণী, সুখিয়াপোখরি, সিওক, রিম্বিক-লোধামা মিলিয়ে ৯৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পেশ করা হয়। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব তৈরির জন্য আরও ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছেন আধিকারিকরা। মঙ্গলবারের মধ্যেই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হয়ে যাবে। বুধবার সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জিটিএ-র চেয়ারম্যান অঞ্জুল চৌহান জানিয়েছেন। তিনি এদিন বৈঠক শেষে বলেছেন, ‘এই পুরো বিপর্যয়ে নজরদারি এবং পুনর্বাসন সহ ক্ষতিগ্রস্তদের দিকে নজর রাখা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি দেখার জন্য একটি সর্বসম্মত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ১১ সদস্যের কমিটিতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের এগজিকিউটিভ সভাসদ কমল সুব্বাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কমিটিতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাাপাশি বিরোধী দলের সদস্য বিনয় তামাং, অজয় এডওয়ার্ডকেও রাখা হয়েছে।’ অঞ্জুল জানান, এই বিপর্যয়কে রাজ্য এবং কেন্দ্রের কাছে বিপর্যয় ঘোষণার দাবি জানানোর ব্যাপারে এদিনের সভায় শাসক এবং বিরোধী, সকলেই সহমত পোষণ করে একজোট হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্গত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য সমস্ত সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি সেতু, রাস্তা তৈরি করা, পানীয় জলের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

বৈঠক শেষে জিটিএ সদস্য অজয় এডওয়ার্ড বলছেন, ‘আমরাই এই বৈঠকের দাবি করেছিলাম। সেইমতো এদিন বৈঠক হয়েছে। বৈঠক থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরি হয়েছে। এই কমিটিতে রাজ্যসভা এবং লোকসভার সাংসদ যথাক্রমে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং রাজু বিস্ট, পাহাড়ের তিন বিধায়ককে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, জিটিএ-র বিরোধী সদস্যরা গত ১৮ মাসের সাম্মানিকের পুরোটাই বিপর্যয় ত্রাণ তহবিলে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *