শিলিগুড়ি: গৌতম দেব-অনীত থাপা যাই চেষ্টা করুন না কেন, দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) পর্যটন স্থানগুলিতে সমতলের গাড়ি যেতে না দেওয়ার দাবিতে অনড় পাহাড়ের গাড়িচালকরা। মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ে সমস্ত চালক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। সেখানেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মানা হলে লালকুঠি অথবা দার্জিলিং জেলা শাসকের অফিসের সামনে রিলে অবস্থানে বসা হবে। পাশাপাশি তাঁরা সমতলের পরিবহণ সংগঠনের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে রাজি বলে জানিয়েছেন।
পুরোপুরি সিকিমের ধাঁচে স্থানীয় গাড়িচালকদের স্বার্থ রক্ষা করার দাবি তুলেছেন দার্জিলিং পাহাড়ের গাড়িচালকরা। রুিটরুজির সওয়াল করে তঁাদের বক্তব্য, সমতলের গাড়ি নির্দিষ্ট পয়েন্টে পর্যটকদের নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে সাইট সিয়িং বা ট্যুরিস্ট স্পটে নিয়ে যাবেন স্থানীয় গাড়িচালকরা। ঠিক এই নিয়ম এ রাজ্যের গাড়িচালকদের ক্ষেত্রে আরোপ করেছে সিকিম সরকার। কিন্তু দার্জিলিংয়ের স্থানীয় গাড়িচালকদের কথা প্রশাসন মেনে নিলে রাজ্যে পরিবহণ সংক্রান্ত নিয়মে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
সোমবারই শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। পাহাড়-সমতলের গাড়ি চলাচল নিয়ে এই সমস্যা দ্রুত যাতে দূর হয় সেই চেষ্টা করছেন গৌতম।
গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে পাহাড়-সমতলের গাড়িচালকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। পাহাড়ের গাড়িচালকদের বক্তব্য, সমতলের পর্যটকবাহী গাড়িগুলি পাহাড়ের দর্শনীয় স্থানগুলিতে যেতে পারবে না। এই গাড়িগুলিকে নির্দিষ্ট পয়েন্টে পর্যটক নামিয়ে দিতে হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এটা মানা সম্ভব নয়। পাহাড় ও সমতলের সমস্ত গাড়ি সব জায়গায় চলাচল করতে পারবে। কিন্তু তার পরেও সমস্যা মেটেনি। বরং সমতলের গাড়ি পর্যটক নিয়ে পাহাড়ের দর্শনীয় স্থানগুলিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং থানায় একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছে। পুলিশ ঘটনাগুলির তদন্তও করছে।
পাহাড়-সমতলের পরিবহণ ও পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির এই বিরোধ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয় সেইজন্য ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির মেয়রও হস্তক্ষেপ করেছেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার পাহাড়ের পরিবহণ সংগঠনগুলি দার্জিলিংয়ের ‘গোর্খা দুখা নিরাবক সম্মেলন’-এর সভাকক্ষে বৈঠকে বসে। সেই বৈঠক থেকে প্রত্যেকটি সংগঠনই ফের দর্শনীয় স্থানগুলিতে সমতলের গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে অনড় থেকেছে। তাদের এই দাবি ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে না মানা হলে ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
দার্জিলিংয়ের সংযুক্ত চালক সংগঠনের মুখপাত্র রাহুল শারসার বলেছেন, ‘আমরা সমতলের চালকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রািজ৷ তবে, পাহাড়ের দর্শনীয় স্থানগুলিতে সমতলের গাড়ি চলতে দেওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি না মানা হলে আন্দোলন হবে।’
সমতলের পরিবহণ ও পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি অবশ্য এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এতদিন যেভাবে চলে এসেছে সেভাবেই চলবে। একই রাজ্যে দু’রকম নিয়ম হতে পারে না। সমতলের জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির তরফে সম্রাট সান্যাল বলছেন, ‘পাহাড়ের আন্দোলন নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে, পাহাড়ের চালকরা যদি সত্যি আলোচনায় বসতে চান তাহলে আমাদের লিখিতভাবে জানান। আমরা জয়েন্ট ফোরামের সব সংগঠন আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
