উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গত ৩১ ডিসেম্বর যখন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তখন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মেনিনজাইটিসের ভয়াবহ সংক্রমণে তখন গভীর কোমায় আচ্ছন্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ব্যাটার ড্যামিয়েন মার্টিন (Damien Martyn)। কিন্তু জীবন যুদ্ধে হার মানেননি ২০০৩ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক। মাত্র আট দিনেই যমদূতকে হারিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন তিনি। বছরের শেষ দিনে অসুস্থ হওয়ার পর মার্টিনকে দ্রুত আইসিইউ-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সংক্রমণের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে চিকিৎসকরাও ছিলেন শঙ্কিত। একনজরে পুরো ঘটনাটি নিম্নরূপঃ
• ৩১ ডিসেম্বর: হাসপাতালে ভর্তি ও কোমা।
• ৪ জানুয়ারি: অবিশ্বাস্যভাবে জ্ঞান ফেরা এবং সাধারণ বেডে স্থানান্তর।
• ৮ জানুয়ারি: পূর্ণ সুস্থতার পথে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরা।
অ্যাশেজ সিরিজের ধারাভাষ্য চলাকালীন মার্টিনের সুস্থতার খবরটি জানান তাঁর প্রিয় সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। তিনি বলেন, “এটি দুর্দান্ত খবর। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে ওকে আরও কিছু পথ পেরোতে হবে। আইসিইউ-তে ওকে ওই অবস্থায় দেখাটা খুব কষ্টের ছিল। ওর পরিবার সকলের সমর্থন ও প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।”
আরেক সতীর্থ মার্ক ওয়াহ এই ফিরে আসাকে ‘মিরাকল’ বলে উল্লেখ করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, অ্যাম্বুলেন্সেই দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়ে যাওয়ায় সংক্রমণকে শুরুতেই কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল, যা কি না শেষ পর্যন্ত জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে। মার্টিন শুধু একজন ব্যাটার ছিলেন না, তিনি ছিলেন নান্দনিক ক্রিকেটের প্রতিশব্দ।
টেস্ট কেরিয়ার: ৬৭ ম্যাচে ৪৪০৬ রান।
ওডিআই কেরিয়ার: ২০৮ ম্যাচে ৫৩৪৬ রান।
মোট শতরান: আন্তর্জাতিক স্তরে ১৮টি সেঞ্চুরি।
স্মরণীয় ইনিংস: ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংসটি আজও ভারতীয় সমর্থকদের দুঃস্বপ্ন।
ক্রিকেট থেকে ২০০৬ সালে অবসর নিলেও ধারাভাষ্যকার হিসেবে তিনি ছিলেন নিয়মিত মুখ। মাঝখানে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিলেও এই অসুস্থতা তাঁকে আবারও শিরোনামে নিয়ে এল। ভক্তদের আশা, দ্রুতই চেনা মেজাজে ধারাভাষ্য বক্সে ফিরবেন তাঁদের প্রিয় ‘মার্টো’।
