উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকার ডালাস শহরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক ভারতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একটি মোটেলে (motel) কাজ করার সময় ওই ভারতীয় ব্যক্তিকে তাঁরই এক কর্মচারী ধারালো অস্ত্রের কোপে নৃশংসভাবে খুন করে। নিহত ব্যক্তির নাম চন্দ্র নাগামাল্লাইয়া(Chandra Nagamallaiah), বয়স ৫০। তিনি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযুক্তের নাম ইয়োরদানিস কোবোস-মার্তিনেজ (৩৭)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার একটি ভাঙা ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করা নিয়ে নাগামাল্লাইয়ার সঙ্গে কোবোস-মার্তিনেজের বচসা শুরু হয়। নাগামাল্লাইয়া তাঁর নির্দেশ সরাসরি মার্তিনেজকে না দিয়ে, আরেকজন কর্মীর মাধ্যমে দেওয়ায় অভিযুক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর সে একটি ধারালো অস্ত্র (machete) নিয়ে নাগামাল্লাইয়াকে আক্রমণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাগামাল্লাইয়া নিজের জীবন বাঁচাতে পার্কিং লট দিয়ে দৌড়ে অফিসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিযুক্ত তাঁর পিছু নেয়। ঘটনার সময় নাগামাল্লাইয়ার স্ত্রী এবং ১৮ বছর বয়সী ছেলেও সেখানে চলে আসে এবং অভিযুক্তকে আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মার্তিনেজ তাঁদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এরপর সে নাগামাল্লাইয়ার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং সেই ছিন্নভিন্ন মাথায় লাথি মারতে শুরু করে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তকে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি তুলে নিয়ে একটি ডাম্পস্টারের দিকে যেতে দেখা যাচ্ছে। রক্তে ভেজা অবস্থায় হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সে যখন ডাম্পস্টারের কাছ থেকে ফিরছিল, সেই সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ইতিমধ্যে, ভারতীয় কনস্যুলেট এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। তাঁরা এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, তাঁরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত কোবোস-মার্তিনেজকে ইতিমধ্যেই খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হিউস্টনে গাড়ি চুরি এবং হামলার মতো পূর্বের অপরাধের রেকর্ডও রয়েছে।
