বরুণ মজুমদার, ডালখোলা: দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে (Delhi Blast) এবারে ডালখোলার নাম জুড়ে গেল। রাজধানীতে নাশকতার ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ শুক্রবার সকালে ডালখোলা (Dalkhola) থানার সূর্যাপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কোনাল গ্রামের বাসিন্দা এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে। মহম্মদ জানিসার আলম নামে ওই তরুণ ১৪ মাস আগে হরিয়ানার আল ফালাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। বর্তমানে তিনি লুধিয়ানাতেই প্র্যাকটিস করছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবারে এই তালিকায় ডালখোলা যুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে প্রশাসনের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি। এ বিষয়ে ইসলামপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার ডেন্ডুপ শেরপার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এদিন এনআইএ যেভাবে ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে তা যেন ঠিক হালের কোনও ওয়েব সিরিজের দৃশ্য। ওই চিকিৎসক এদিন স্কুটারে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। এনআইএ’র টিম সেই সময় সূর্যাপুর হাইস্কুলের মূল গেটের সামনে অপেক্ষা করছিল। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই চিকিৎসক সেখানে একটি চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছাতেই এনআইএ তাঁকে আটকায়। চলন্ত স্কুটার থামিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ’র টিম নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। দলের এক সদস্য ওই চিকিৎসকের স্কুটারটি চালিয়ে ওই গাড়ির পিছন পিছন এলাকা ছাড়েন। যেভাবে দ্রুতগতিতে ঘটনাটি ঘটে গিয়েছিল তাতে সবাই হতচকিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে ওই চিকিৎসককে আগে এলাকায় তাঁরা দেখেননি বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জানিসার গত মঙ্গলবার লুধিয়ানা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে মা ও দিদিকে নিয়ে দিল্লি হয়ে বুধবার কোনালের বাড়িতে আসেন।
জানিসারের জ্যাঠা আবুল কাশিম বলেন, ‘জানিসারের বাবা তৌহিদ আলম পেশায় হাতুড়ে। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে লুধিয়ানায় থাকেন। দিল্লির বিস্ফোরণের পর একদল তদন্তকারী লুধিয়ানায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছে। এরপর আজ এখান থেকে জানিসারকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল।’ জানিসারের এমবিবিএস পড়ার খরচ কীভাবে জোগাড় হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারী দল তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে আবুল জানান।
পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, জানিসার সাধারণত লুধিয়ানাতেই বাবা-মা ও দিদিকে নিয়ে থাকেন। দিদি এমএ পাশ করে সেখানকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। দিদির বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত করতেই জানিসার মা ও দিদিকে নিয়ে বুধবার গ্রামে এসেছিলেন। আগামী ডিসেম্বরেই দিদির বিয়ের কথা। কিন্তু তার আগেই জানিসার গ্রেপ্তার হওয়ায় পরিবার চিন্তায় পড়েছে। এদিন কোনাল গ্রামে জানিসারের বাড়িতে গেলে তাঁর মা ও দিদিকে পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারের খবর শোনার পর থেকেই তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে এক আত্মীয় জানান।
স্থানীয় বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদ বলেন, ‘জানিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ওঁর আত্মীয় আবুল কাশিমের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারি। এনআইএ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিলিগুড়িতে নিয়ে গেছে বলে প্রশাসনিক মহল থেকে জানতে পেরেছি। এর বেশি কিছু জানি না।’ আবুলের অবশ্য আশা, ‘তদন্তকারী দল ওকে ছেড়ে দেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’ আপাতত ওই চিকিৎসকের পরিবার এই আশাতেই ভরসা করছে।
The put up Dalkhola | ধৃত বঙ্গের ডাক্তার! নয়াদিল্লির নাশকতায় ডালখোলা–যোগ appeared first on Uttarbanga Sambad.
