রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর: পিকনিক, বনভোজন, চড়ুইভাতি— নাম যা-ই হোক না কেন, আনন্দ কিন্তু একই। আর শীতকাল এলেই বাঙালির মনটা পিকনিক-পিকনিক করে ওঠে। বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া সহকারে একটা সুন্দর দিন কাটানো। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই অল্পবিস্তর পিকনিক শুরু হয়েছে। কিন্তু পিকনিকের এই ভরা মরশুমে উপযুক্ত জায়গার অভাবে সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিত গঙ্গারামপুর। তাই এই শীতেও মন খারাপ শহরবাসীর।
পিকনিকের টানে শহর ছেড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অথবা প্রতিবেশী জেলায় ছুটতে হয় সাধারণ মানুষকে। গঙ্গারামপুর শহরের মতো ইতিহাসবিজড়িত স্থানে একটিও পিকনিক স্পট না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। পিকনিক স্পট গড়ে তোলার দাবিতে সরব হচ্ছেন শহরবাসী। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আগামীদিনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র।
একটা সময় ছিল, শীতকাল পড়তে না পড়তেই দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) গঙ্গারামপুর (Gangarampur) শহর সংলগ্ন ইতিহাসপ্রসিদ্ধ বাণগড়ে পিকনিকের আসর বসত। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সেখানে পিকনিক করতে আসতেন। পরবর্তীতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বাণগড়ে পিকনিক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
কিন্তু কোথায় পিকনিকের জন্য বিকল্প জায়গা তৈরি করা সম্ভব? শহরের অনেকে বলছেন, বাণগড় সংলগ্ন এলাকা, পুনর্ভবা নদীঘাট, ধলদিঘি বা কালদিঘি সংলগ্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে পিকনিক স্পট তৈরি করা যেতে পারে। গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক গোবিন্দ পাল বলেন, ‘শহরে একাধিক ইতিহাসপ্রসিদ্ধ স্থান রয়েছে। তবে সেখানে পিকনিক করা নিষিদ্ধ। তবে শহর সংলগ্ন এলাকায় বেশকিছু সরকারি জায়গা রয়েছে। যেমন বাণগড়, পুনর্ভবা নদী সংলগ্ন স্থান। এই সব জায়গাকে চিহ্নিত করে সরকারি উদ্যোগে পিকনিক স্পট সহ শৌচাগার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হলে শহরবাসীকে আর বাইরে ছুটতে হবে না। বাইরের পর্যটকরাও গঙ্গারামপুরে পিকনিক করতে আসবেন।’
শহরের আরেক বাসিন্দা কিষ্টু মুর্মুর কথায়, ‘শহর ও সংলগ্ন এলাকায় পিকনিক স্পট না থাকায় মোটা টাকা খরচ করে, গাড়ি ভাড়া নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত বা পাশের জেলায় যেতে হয়। কখনো-কখনো নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসনিক উদ্যোগে শহরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান অথবা পুনর্ভবা নদীর ধারে পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হলে পর্যটনের প্রসার ঘটবে।’
অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘পুনর্ভবা নদী সংলগ্ন বেশকিছু জায়গায় পিকনিক স্পট তৈরি করা যেতেই পারে। তবে এর জন্য কিছুটা সৌন্দর্যায়নের প্রয়োজন। প্রাকৃতিকভাবে জায়গাগুলো সুন্দর। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ছাড়া মানুষ কেন সেখানে পিকনিক করতে যাবেন? প্রশাসনকে সবটাই ভেবে দেখতে হবে।’
