উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের মহার্ঘ ভাতা (DA) ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠল তিলোত্তমার রাজপথ। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Courtroom) নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বকেয়া মেটানোর বিষয়ে সরকারের উদাসীনতার অভিযোগে বৃহস্পতিবার ‘কালীঘাট অভিযান’-এর ডাক দিয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে পুলিশের কঠোর ব্যারিকেড ও বাধার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলেও, আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে পূর্ণ ধর্মঘটের এক বড়সড় হুঁশিয়ারি দিয়ে মাঠ ছাড়লেন তাঁরা।
এদিন ধর্মতলা থেকে মিছিল শুরু হতেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। হাজরা মোড়ে ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড গড়ে তুলে মিছিল আটকায় পুলিশ প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee), না হয় মুখ্যসচিবকে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক সাড়া না মেলায় দীর্ঘক্ষণ হাজরা ও ধর্মতলা এলাকায় পথ অবরোধ করে বসে থাকেন সরকারি কর্মচারীরা।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “সারা ভারতবর্ষ সুপ্রিম কোর্টের আইন মানলেও, এই রাজ্যে আইন চলে কেবল একজনের নির্দেশে। প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।” আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁরা কালীঘাটে পূজা দিতে যেতে চাইলেও সরকার ভয় পেয়ে পুলিশ লেলিয়ে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।
বিকেলের দিকে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হলেও আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে যৌথ মঞ্চ। তাঁদের সাফ কথা, “সেমিফাইনাল শেষ, এবার ফাইনাল খেলা হবে ১৩ মার্চ।” ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে পূর্ণ ধর্মঘট। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর ও আদালত অচল করে দেওয়া। বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটানো এবং স্বচ্ছ নিয়োগ। এখন দেখার, এই ধর্মঘটের ডাক মোকাবিলায় নবান্ন কী ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
