উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক অলিন্দে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো সোমবার। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের প্রক্রিয়া (West Bengal DA Case) ইতিমধ্যেই শুরু করেছে রাজ্য। আর এই আবহেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari CM) সঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় দেড় ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা মেটানোর ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাল। অতীতের সংঘাতের আবহ ঝেড়ে ফেলে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মচারীদের দাবিদাওয়া পূরণে বর্তমান সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বৈঠক শেষে নবান্নের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (Sangrami Joutho Mancha) অন্যতম প্রধান মুখ ভাস্কর ঘোষ জানান, দীর্ঘ বছর ধরে কর্মচারীদের ন্যায়সংগত দাবি নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে আলোচনার কোনো পরিবেশ ছিল না। বর্তমান জমানায় সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। ভাষ্করবাবু বলেন, ‘ডিএ সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শীর্ষ আদালত (Supreme Courtroom) যে নির্দেশ দেবে, সরকার তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। কোনো প্রশাসনিক টানাপড়েন বা টালবাহানার পথে হাঁটবে না রাজ্য।’
২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ সরকার ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। বাকি বকেয়া অর্থ মেটানোর ক্ষেত্রেও আলোচনার দরজা সম্পূর্ণ খোলা রাখা হয়েছে। শুধু মহার্ঘ ভাতাই নয়, এদিনের বৈঠকের অন্যতম সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সুনির্দিষ্ট আশ্বাস। ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।”
প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশ্নেও এদিন সরব ছিলেন যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা। সরকারি দপ্তরে তথাকথিত ‘কাটমানি’ এবং কর্মচারীদের বদলি বা শাস্তির ভয় দেখানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা বন্ধের দাবি জানান তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করে জানান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যেকোনো স্তরের দুর্নীতি বা হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। এদিনের বৈঠকের পর সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন শুরু হয়েছে আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেট নিয়ে। ভাস্কর ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একাধিক বড় ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালানো সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ও রাজ্য সরকারের এই টেবিল বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক সূচনা’ হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, আগামী ২২ জুনের বাজেটে কর্মচারীদের প্রত্যাশার ঝুলি কতটা পূর্ণ হয়।
