উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: একুশের নির্বাচনে শূন্য হওয়ার পর, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে (WB Meeting Election 2026) জিতে বামেদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এবার বিধানসভায় পা রেখেছেন ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান (CPM MLA Mustafizur Rahman)। শুক্রবার বিধানসভায় নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাম আদর্শের পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের গুরুত্বের কথা সজোরালোভাবে তুলে ধরলেন তিনি। নবনির্বাচিত অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুকে (Speaker Rathindra Basu) শুভেচ্ছা জানিয়ে বিধানসভার গরিমা রক্ষা করার আহ্বান জানান মুস্তাফিজুর।
শপথগ্রহণের দিনের আবেগঘন মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি ড. প্রফুল্ল ঘোষ, বিধানচন্দ্র রায়, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি স্মরণ করেন ডোমকলের দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমানকেও।
এরপরই বিজেপি-র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ মনে করিয়ে বলেন, “লোকসভা ও বিধানসভা বিরোধীদের জন্য। সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা ও ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়াই বিরোধীদের একমাত্র কাজ। সরকারের দর্পণ হলো এই অধিবেশন কক্ষ।” তিনি গর্বের সঙ্গে দাবি করেন, ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের আলোচনা ছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্র কখনই পরিপুষ্টতা লাভ করতে পারে না।
স্পিকার কেমন হওয়া উচিত, তা বোঝাতে গিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং এই বিধানসভার দীর্ঘ ২৯ বছরের স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের ঐতিহ্য ও নিরপেক্ষতার কথা টেনে আনেন। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে স্পিকার কেমন হওয়া উচিত, তার অনন্য উদাহরণ হাসিম আব্দুল হালিম।
নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে ডোমকলের বিধায়কের অনুরোধ, “সংখ্যার বিচারে বিরোধীদের কণ্ঠস্বরকে যাতে চাপা না দেওয়া হয়, সেটা আপনাকে আগামী ৫ বছর দেখতে হবে। সংখ্যা নয়, সবার সমান অধিকার যাতে রক্ষিত হয়।” স্পিকার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বললে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এই বিধানসভায় সদস্যদের আক্রমণ করা হয়েছে, বিরোধী দলনেতাদের সঠিক স্পেস দেওয়া হয়নি।” তাই আগামী দিনে বিরোধীরা যাতে সরকারের কাজের ত্রুটি তুলে ধরার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পায়, স্পিকারের কাছে সেই আর্জিই জানিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
