অনুপ সাহা, ওদলাবাড়ি: নিষেধাজ্ঞা জারির পরও সেবকের করোনেশন সেতুর (Coronation Bridge) ওপর দিয়ে দশ টনের বেশি ওজনের গাড়ি অবাধেই চলাচল করছিল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে এই প্রবণতা বেড়ে যেত কয়েকগুণ। যা ঠেকাতে হাইট বার (Peak Bar) বসানো হল সেতুর শিলিগুড়ি প্রান্তে।
১৯৪১ সালে সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তারপর ঠিকঠাকই চলছিল। তবে ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভূমিকম্পের কারণে সেতুর আংশিক ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ মেনে সংস্কারের পর জাতীয় সড়ক ৯ নম্বর ডিভিশনের তরফে ঐতিহ্যবাহী করোনেশন সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দশ টন ওজনের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে আরও ১৪টি বছর। ইতিমধ্যেই সেবকে তিস্তার ওপর যেমন দ্বিতীয় সড়কসেতুর দাবি জোরালো হয়েছে, তেমনই করোনেশন সেতুর রক্ষণাবেক্ষণেও জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে। সেবকে তিস্তার ওপর দ্বিতীয় সড়কসেতুর দাবিতে আন্দোলনরত ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশ্যাল রিফর্মস নামে সংগঠনের আহ্বায়ক চন্দন রায় বলেন, ‘এতদিন পর সেতুর ওপর হাইট বার বসিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হল। এতেই প্রমাণিত হল, করোনেশন সেতুর স্বাস্থ্য বেহাল হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে দ্বিতীয় সেতু তৈরির কাজ শুরু করা উচিত।’
মাস কয়েক আগে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট (Raju Bista) ঘটা করে ঘোষণা করেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়া আহ্বান করা হবে। কিন্তু ডিসেম্বর শেষ হতে চললেও এখনও পর্যন্ত সেসব কিছুই হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চন্দন। ২০০২ সাল থেকে তিস্তার ওপর দ্বিতীয় সেতুর দাবিতে আন্দোলনরত ওদলাবাড়ি উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক অশোক মুখোপাধ্যায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, জাতীয় সড়ক ৯ নম্বর ডিভিশনের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্তনারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে সেতুর ওপরে ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হাইট বার বসানো হয়েছে।’
