দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : ইউজিসি’র নিয়ম হল কোনও কলেজে যদি মেজর কোর্সে পাঠদান করতে হয়, তাহলে অন্তত ৫ জন স্থায়ী অধ্যাপক থাকতেই হবে। কিন্তু আদৌ কি কোচবিহারের কলেজগুলি এই নিয়ম মেনে চলছে? জেলার অধিকাংশ কলেজেই তো অস্থায়ী অধ্যাপক দিয়ে পঠনপাঠন চলছে। যেমন জেলার সেরা কলেজগুলির মধ্যে অন্যতম কোচবিহার কলেজ। এই কলেজেও শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগে স্থায়ী অধ্যাপক নেই।
পরিকাঠামোগত সমস্যা তো রয়েছেই, সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত অধ্যাপকের অভাবেও ভুগছে জেলার অধিকাংশ কলেজ। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চললেও সমস্যা সমাধানে হেলদোল নেই কারও। কলেজগুলির অধ্যক্ষদের একাংশ বলছে, স্থায়ী অধ্যাপক চেয়ে কলেজ সার্ভিস কমিশন থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছেও একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে। লাভ হয়নি। সমস্যার কথা স্বীকার করে ঘোকসাডাঙ্গা বীরেন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গোবিন্দ রাজবংশী বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী মেজর কোর্স চালাতে অন্তত ৫ জন স্থায়ী অধ্যাপক থাকা জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ গ্রামীণ কলেজে তা নেই। তাই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি।’
তাহলে ক্লাস নিচ্ছেন কারা? জেলার অধিকাংশ কলেজে ভরসা ‘স্টেট এইডেড কলেজ টিচার’ বা স্যাক্টরা। কোথাও আবার মাইনর বিষয়ে পাঠদানের জন্য ভরসা আমন্ত্রিত শিক্ষকরা। কোন সিমেস্টারে কোন বিষয়ে কতগুলি ক্লাস নিতে হবে, সেই সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ইউজিসি। কিন্তু অস্থায়ী অধ্যাপকদের ভরসায় পাঠদান চললে সেই নির্দেশিকা মেনে চলতে সমস্যা হবে বলে মনে করছেন কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে অধ্যাপকরা। কোচবিহার কলেজের অধ্যক্ষ তথা অধ্যক্ষ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট পঙ্কজকুমার দেবনাথ বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কলেজগুলিতে যে সংখ্যক অধ্যাপক থাকার কথা, তা নেই। জেলার প্রায় প্রতিটি কলেজেই পর্যাপ্ত অধ্যাপকের অভাব রয়েছে। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত পদক্ষেপ করলে পড়াশোনার মান বাড়বে।’
যেমন ঘোকসাডাঙ্গা বীরেন্দ্র মহাবিদ্যালয়ে ভূগোল এবং শারীরশিক্ষায় মাইনর কোর্স চলছে একজন করে অস্থায়ী অধ্যাপককে দিয়ে। সেখানে শিক্ষাবিজ্ঞান এবং সংস্কৃতে মেজর কোর্সও চলছে একজন করে অস্থায়ী অধ্যাপককে দিয়ে। কলেজে ১১ জন অস্থায়ী অধ্যাপক রয়েছেন, আর স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র ৫ জন। হলদিবাড়ির নেতাজি সুভাষ মহাবিদ্যালয়েরও বেহাল দশা। সেখানে শিক্ষাবিজ্ঞানে মাইনর কোর্স করাচ্ছেন একজন অস্থায়ী অধ্যাপক। দর্শন বিভাগের মেজর কোর্সের স্থায়ী অধ্যাপক সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। এখন সেই বিষয়ের ভরসাও অস্থায়ী অধ্যাপকরাই। মেখলিগঞ্জ কলেজে মেজর কোর্সের তালিকায় ভূগোল রয়েছে, কিন্তু তার কোনও স্থায়ী অধ্যাপক নেই। সেখানে সংস্কৃত, সমাজবিদ্যা এবং শারীরশিক্ষার মেজর কোর্সে ক্লাস নিতে ভরসা অস্থায়ী অধ্যাপকরাই। দিনহাটা কলেজে মাইনর কোর্সে সংস্কৃত, শিক্ষাবিজ্ঞান এবং সমাজবিদ্যার কোর্স পড়াচ্ছেন অস্থায়ীরা। সেই কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ আবদুল আওয়াল বলেন, ‘অস্থায়ী অধ্যাপকরা না থাকলে গ্রামীণ এলাকার বহু কলেজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। ’
এ তো গেল শহরের কলেজগুলির কথা। গ্রামীণ এলাকার কলেজগুলির মধ্যে বাণেশ্বর কলেজে মেজর কোর্স ভূগোলে কোনও স্থায়ী অধ্যাপক নেই। বক্সিরহাট কলেজে শিক্ষাবিজ্ঞান এবং সমাজবিদ্যার কোনও স্থায়ী অধ্যাপক নেই।
কলেজগুলিতে ভূগোল, শারীরশিক্ষার মতো প্র্যাকটিকাল-নির্ভর বিষয়গুলিতে স্থায়ী অধ্যাপক না থাকায় পড়ুয়াদের সমস্যা কতদিনে মিটবে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন তাঁরা।
