দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের র্যাগিংয়ের শিকার এক পড়ুয়া। প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সিমেস্টারের হর্টিকালচার বিভাগে পাঠরত ছাত্রটি। ক্যাম্পাসের প্রশান্তচন্দ্র মহালনবিশ হস্টেলে সোমবার রাতে তাঁকে র্যাগিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ছাত্রটি জানান, দ্বিতীয় বর্ষের চারজন পড়ুয়া আগের রাতে তাঁকে রীতিমতো মারধর করেন, এমনকি মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এরপর রাতেই তিনি ডিন সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এবং অ্যান্টি র্যাগিং স্কোয়াড কমিটির সদস্যদের দুজনকে ফোন করেন। কিন্তু তাঁরা কেউ ফোন না ধরায় তিনি ইউজিসির পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করেন।
পড়ুয়ার অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার ইউজিসি থেকে একটি মেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তথা অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রদ্যুৎকুমার পালের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি র্যাগিং স্কোয়াড, অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি বৈঠকে বসে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবব্রত বসুর বক্তব্য, ‘ইউজিসি’র নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যান্টি র্যাগিং স্কোয়াড এবং অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি রেজিস্ট্রার এবং ডিন সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি।’
উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। মাসখানেক আগেও এক ছাত্র একইভাবে ইউজিসির কাছে র্যাগিংয়ের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুততার সঙ্গে কর্তৃপক্ষ ইউজিসিকে রিপোর্ট দিলেও আখেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, সেকারণেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি, ইন্টারন্যাল কমপ্লেন কমিটি, অ্যান্টি র্যাগিং স্কোয়াড এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর ভরসা না করতে পেরে ছাত্রটি সরাসরি ইউজিসিকে অভিযোগ জানিয়েছে? বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এদিন দুপুরে অভিযোগকারী এবং যাঁদের নামে অভিযোগ করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ডিন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার। প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়াকে আশ্বস্তও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগকারী সেই পড়ুয়া এদিন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বলেন, ‘হস্টেলে এধরনের ঘটনা আগেও হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেনি। এভাবে বারবার চলতে থাকলে পড়ুয়া এখানে পড়বে কীভাবে?’ তাঁর অভিযোগ, ‘আমরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। সিনিয়াররা যা বলবে সেটাই শেষ সিদ্ধান্ত। আমি তাদের সিদ্ধান্তে একমত হইনি। সেজন্য তারা আমাকে মারধর করেছে, হুমকি দিয়েছে, মানসিক নির্যাতন করেছে। মঙ্গলবার আমার পরীক্ষা ছিল, তাও ওরা আমার কথা শোনেনি। এভাবে চলতে থাকলে আমি কেন, সবাই অভিযোগ করবে।’
র্যাগিংয়ের ঘটনায় যে চারজনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাঁদের মধ্যে দুজনের নামে আগেও র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তার পরেও কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ না করায় চিন্তিত ওই পড়ুয়া। এদিনের মিটিংয়ের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে বৈঠকের পর ইউজিসিতে উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রদ্যুৎকুমার পালের কথায়, ‘অভিযোগকারী এবং যাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছে দু’পক্ষকেই আলাদা আলাদা করে নিয়ে বসা হয়েছিল। ছাত্রদের কাউন্সেলিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী ইউজিসির কাছে এবং ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।’
