চ্যাংরাবান্ধা: ট্রাকের জানলা ধরে ঝুলতে ঝুলতে আসছেন এক তরুণ। এভাবেই প্রায় ১০ কিমি রাস্তা এসেছেন তিনি। বাঁচার জন্য চিৎকার করছেন। অবশেষে চ্যাংরাবান্ধার দেবী কলোনির বাসিন্দাদের বদান্যতায় মুক্তি পেলেন তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল চ্যাংরাবান্ধা। দেবী কলোনির বাসিন্দারা সেই ট্রাকটিকে আটক করে তরুণকে মুক্ত করেন। তাঁর হাত ফুলে গিয়েছে। চিকিৎসক এক্স-রে করতে বলেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাটোয়ারিবাড়ি এলাকায় কীর্তনের চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ট্রাকচালক এবং কমিটির মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। যার জেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে সরানোর কথা বলতে যান চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়কামাত এলাকার বাসিন্দা বাইক আরোহী মধুসূদন বর্মন। ডব্লিউবি ৭৩ এইচ ২০০৮ নম্বরযুক্ত ট্রাকের চালক বাইক আরোহী মধুসূদন বর্মনের হাতটি জানলায় আটকে থাকা অবস্থায় প্রায় ১০ কিমি ট্রাক চালিয়ে নিয়ে আসেন। মধুসূদন বাঁচার জন্য চিৎকার করলে দেবী কলোনির বাসিন্দারা ট্রাক থামিয়ে তরুণকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, ‘ট্রাকে একজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় চিৎকার করে আসতে দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই। ওই ব্যক্তিকে নামিয়ে চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চালক সহ ট্রাকটিকে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ নিয়ে গিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, মাঝরাস্তায় চাঁদা নিয়ে ঝামেলার জন্য নাকি চালক এমন করেছেন।’
চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে দাঁড়িয়ে মধুসূদন বর্মন বলেন, ‘চৌরঙ্গি থেকে এক পরিচিতর বাড়িতে নেমন্তন্ন খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে দেখি পাটোয়ারিবাড়ি এলাকায় রাস্তা আটকে ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওখানে কীর্তন কমিটির সঙ্গে ট্রাকচালকের সমস্যা হয়েছে বলে জানতে পারি। ট্রাক রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকায় আমি ট্রাকের পাদানিতে উঁকি দিয়ে ট্রাকটি সরাতে বলি। সেই অবস্থায় ট্রাকচালক আমার আঙুল জানলার কাছে আটকে দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ট্রাক নিয়ে আমাকে সহ ছুটতে শুরু করেন। বাঁচার জন্য আমি চিৎকার শুরু করি। চালককে ট্রাক থামাতে বললেও কথা শোনেননি। মনে হচ্ছিল ট্রাক থেকে পড়ে মরে যাব। দেবী কলোনির বাসিন্দারা ট্রাকটি থামালে ট্রাক থেকে নেমে যেন প্রাণ ফিরে পাই। হাত ফুলে গিয়েছে। ডাক্তার ওষুধ দিয়েছেন। এক্স-রে করতে বলেছেন। ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করব।’
মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিস পি সুব্বা বলেন, ‘আমরা পুরো ঘটনা তদন্ত করছি। এখনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পড়লে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।’
