মাথাভাঙ্গা: ধীরে ধীরে গরম পড়তে শুরু করেছে। সঙ্গে বাড়ছে তৃষ্ণাও। অথচ যে সৌরবিদ্যুৎচালিত পানীয় জলপ্রকল্পগুলোকে ঘিরে একসময় আশার আলো জ্বলে উঠেছিল, সেগুলিই এখন প্রশ্নের মুখে। কারণ, বর্তমানে অন্তত ৬টি জলপ্রকল্পের প্যানেল অকেজো হয়ে রয়েছে।
২০২১ সাল থেকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টায়েড ফান্ডে পচাগড় পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ২৪টি সৌরবিদ্যুৎচালিত পানীয় জলপ্রকল্প চালু হয়। উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিটি বুথে পরিস্রুত জল পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্তত ৬টি জলপ্রকল্প আদতে বাসিন্দাদের নিরাশ করছে।
ফকিরেরকুঠি গ্রামের প্রকল্পটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। কিন্তু শুরু থেকেই জলে অতিরিক্ত আয়রন ও দুর্গন্ধের অভিযোগ। ফলে কল থাকলেও জল খাওয়া যায় না। বাসিন্দা নৃপেন বর্মনের কথায়, ‘শুরু থেকেই এখানকার ট্যাংক থেকে আয়রন ও দুর্গন্ধযুক্ত জল বের হওয়ায় আমরা এই জল খাই না।’
অন্যদিকে, পঞ্চায়েত কার্যালয়ের কাছেই ১৬ নম্বর রাজ্য সড়কের ধারে বেলতলা মোড়ের পানীয় জলপ্রকল্পের সৌর প্যানেলটি দেড় মাস ধরে অকেজো। দোকানদার মোহন বর্মন জানান, প্রতিদিন মানুষ জল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভুল জায়গায় জলপ্রকল্প করা হয়েছে। বহুবার স্থানান্তরের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেত্রী সন্তোষী বর্মনও। তঁার কথায়, ‘পরিকল্পনাহীনতাই সমস্যার মূল। ওই জায়গায় প্রকল্পটি তৈরি করার কথা ছিল না। কিন্তু আমাদের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে সেখানে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।’ এই পরিস্থিতিতে জল নিয়ে কষ্ট বাড়ছে বলে জানান গৃহবধূ সান্ত্বনা বর্মন ও পড়ুয়া বৃষ্টি বর্মন।
এদিকে বাসিন্দা সজল দােসর অভিযোগ, ‘পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপি আর পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধের জেরেই সংস্কার হচ্ছে না পানীয় জলপ্রকল্পটি।’
যদিও পচাগড় পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক অমিতাংশু সাহার দাবি, বট গাছের ছায়ায় প্যানেল ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না। উপরন্তু পাখির মলমূত্রে যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। তঁার বক্তব্য, একাধিকবার সংস্কার করলেও কিছুদিন পরই তা অকেজো হয়ে যাচ্ছে।
পঞ্চায়েত প্রধান কুন্তী বর্মন অবশ্য জানান, ৬টি প্রকল্পের প্যানেলেই সমস্যা রয়েছে। ট্যাংক ফেটে যাওয়া সহ নানা ত্রুটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেলতলা মোড়ের প্যানেলটি যেখানে রয়েছে, তার উপরের গাছের ডাল কাটার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশ্ন উঠছে, সূর্যের আলোয় চলা ওইসব প্যানেল কি অবহেলার অন্ধকারেই ডুবে থাকবে, নাকি পরিস্রুত জল সরবরাহ করবে?
