চ্যাংরাবান্ধা: দীপাবলির আলোকধারায় চিরকালীনভাবে উত্তরে উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে দেয় কোচবিহার জেলার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র চ্যাংরাবান্ধা। সারা বছর যেরকমই থাকুক না কেন, কালীপুজোয় চ্যাংরাবান্ধায় অদ্ভুত আনন্দ। বিগ বাজেটের এবং থিম নির্ভর মণ্ডপ ও প্রতিমা দেখতে রাস্তায় নামেন সকলে। যাঁরা বাইরে থাকেন, তাঁরা যেমন বাড়ি ফিরতে শুরু করেন, তেমনই বিভিন্ন জায়গায় থাকা আত্মীয়স্বজনরাও কালীপুজোর সময় চ্যাংরাবান্ধাকে তাঁদের গন্তব্য করে নেন। ইতিমধ্যেই সেজে উঠতে শুরু করেছে চ্যাংরাবান্ধার বিভিন্ন রাস্তা। নাওয়াখাওয়া ভুলে থিমের বাস্তব চিত্রায়নের জন্য পরিশ্রম করে চলেছেন পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি মণ্ডপকর্মীরা।
চ্যাংরাবান্ধায় বিগ বাজেটের পুজোর সংখ্যা কম নয়। যার মধ্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণপাড়ার দক্ষিণায়ন ক্লাব। ৪৭তম বর্ষে দক্ষিণায়নের থিম ‘সবুজের আরাধনা’। উদ্যোক্তাদের তরফে প্রসেনজিৎ সাহা বলছেন, ‘প্রকৃতির দান আমাদের জীবন। তাই প্রকৃতিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার প্রয়াস।’ থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রাখতে মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার হচ্ছে অধিকাংশ প্রাকৃতিক জিনিস। প্রকৃতির ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে কতটা মাশুল গুনতে দিতে হচ্ছে, তাও তুলে ধরা হবে মণ্ডপে। অর্থাৎ, সচেতনতার বার্তা দেওয়া হবে। এই সূত্র ধরেই প্রসেনজিৎ বলছিলেন, ‘মানুষ যে প্রকৃতির সন্তান, তা অনেকেই ভুলে গিয়েছে। কিছু মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রকৃতির রোষানলে পড়তে হচ্ছে আমাদের। বর্তমান সভ্যতায় কৃত্রিমতার মোহে পড়েছি। তাই সবুজের আরাধনার মাধ্যমে প্রকৃতিকে একদিকে যেমন ফিরিয়ে আনার আহ্বান রাখা হবে, তেমনই প্রকৃতি রক্ষার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।’ ক্লাব সদস্য রুপম সরকারের কথায়, ‘‘গত বছরগুলিতে ‘কুতুবমিনার’, ‘লালকেল্লা’, ‘দায়বদ্ধতা’, যেভাবে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছিল, মন জয় করেছিল, আশা করছি এবছরেও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খুব কাছে বলেই দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও আমাদের পুজো দর্শন করেন।’
থিমের লড়াইতে অন্যদের টেক্কা দিতে তৈরি চ্যাংরাবান্ধা বিবেকানন্দপাড়ার বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব। বিবেকানন্দের এ বছরের থিম ‘আলোর খোঁজে জোনাকি’। জোনাকি যেরকমভাবে অন্ধকারের মধ্যেও জ্বলে উঠতে পারে, তার মিটিমিটি আলো কালো আঁধারের মাঝে আলোর আলপনা তৈরি করে, তেমনভাবেই তা আশার আলো হয়ে ওঠে। পুজো কমিটির সম্পাদক রঞ্জিত ঘোষ বললেন, ‘এখানে জোনাকি অনেকটা রূপকের কাজ করেছে। জীবনে অনেক সময়ই আমরা বিভিন্ন খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে থাকি। সেই খারাপের মধ্যে থেকে কী করে ভালোটাকে খুঁজে নিয়ে জীবনের লড়াইতে এগিয়ে যেতে হবে, সেই বার্তাই থিমের অন্তর্নিহিত অর্থে রয়েছে। কাজেই কখনোই নিরাশ হলে চলবে না।’ ক্লাব সম্পাদক অশোক ঘোষের দাবি, চ্যাংরাবান্ধায় প্রথম থিমের পুজো তাঁরাই শুরু করেন ‘পাতালপুরী’র মধ্যে দিয়ে। তারপর থেকে ‘বৌদ্ধমন্দির’, ‘জীবনে ত্রিলোকের প্রভাব’, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ সহ বিভিন্ন থিম নির্ভর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। অশোক বলছেন, ‘এবার ৩৭তম বর্ষে আলোর খোঁজে জোনাকির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা অনেক কিছুই উপলব্ধি করতে পারবেন। উত্তরবঙ্গ সহ বাইরের বিভিন্ন জায়গার দর্শনার্থীরা যেভাবে পুজো দেখতে ভিড় জমান, এবছরও তার অন্যথা ঘটবে না বলে আশাবাদী। তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।’
