Cooch Behar | রেডিওলজি বিভাগে কর্তাই ডুমুরের ফুল! ল্যাজেগোবরে মেডিকেল

Cooch Behar | রেডিওলজি বিভাগে কর্তাই ডুমুরের ফুল! ল্যাজেগোবরে মেডিকেল

শিক্ষা
Spread the love


কোচবিহার: দিনের পর দিন কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠল রেডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডাঃ দেবীশংকর ঘোষহাজরার বিরুদ্ধে। অভিযোগ এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ওই বিভাগের দায়িত্বে থাকলেও মাসে সাত-আটদিন মাত্র কোচবিহারে থাকেন তিনি। এর ফলে চিকিৎসা করাতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়রা।

এমনিতেই রেডিওলজি বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার নেই। অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদগুলো ফাঁকা। মাত্র একজন প্রফেসর এবং একজন রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে এই বিভাগ। তবে শুধু যে বিভাগীয় প্রধানকেই হাসপাতালে পাওয়া যায় না তা নয়, এখানে যিনি আরএমও রয়েছেন সেই ডাঃ অনিন্দিতা রায়েরও খুব একটা দেখা মেলে না হাসপাতালে। বর্তমানে একজন সিনিয়ার রেসিডেন্ট রয়েছেন ওই বিভাগে। এই পদটি সাময়িক সময়ের জন্য হলেও, বিভাগের সব দিকটাই এখন সামলাতে হচ্ছে এসআর যিনি আছেন সেই ডাঃ সৌরভময় তালুকদারকে। এই বিষয়ে খুব একটা মুখ খুলতে না চাইলেও বিভাগীয় প্রধান না থাকায় যে কাজের একটা চাপ পড়ে যায় তা তিনি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন।

এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দু’ধরনের এক্স-রে করা হয়। মূলত সমস্যা দেখা দেয় সাধারণ এক্স-রে এবং ইউএসজির ক্ষেত্রে। হাসপাতালের প্রতি মাসে গড়ে ৫০০টি মতন এক্স-রে ও ২৩০০টির মতো ইউএসজি হয়। সেক্ষেত্রে রেডিওলজির বিভাগীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে এই পরীক্ষাগুলোর অনুমোদনের স্বাক্ষর করার দায়িত্ব বর্তায় এমএসভিপির ওপর। রেডিওলজিস্টরা নিয়মিত না থাকায় সাধারণ এক্স-রে এবং ইউএসজির ক্ষেত্রে রোগীদের ডেট এবং রিপোর্ট পেতে সমস্যা দেখা যায়। সময়মতো রিপোর্ট না পাওয়ায় রোগীর আত্মীয়দের যেমন হয়রানি হতে হয় এবং সেই অভিযোগও শুনতে হয় এমএসভিপিকেই। এমনও হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর ইউএসজির ডেট পড়ে। সেক্ষেত্রে অনেক রোগীই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন।

কোচবিহার মেডিকেল কলেজে রেডিওলজিতে ডিপ্লোমা কোর্স পড়ানো হয়ে থাকে। অভিযোগ সেখানেও বিভাগীয় প্রধান কোনও ক্লাস নেন না। কাজের গাফিলতির জন্য তাঁকে শোকজ করতে বাধ্য হয়েছেন এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ নির্মলকুমার মণ্ডল। রেডিওলজির বিভাগীয় প্রধান যে দিনের পর দিন হাসপাতালে আসেন না এবং নিজের দায়িত্ব পালন করেন না তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডাঃ সৌরদীপ রায়। তাঁর কথা অনুযায়ী, বহুবার বলা সত্ত্বেও তাঁকে শোধরানো যায়নি। এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে আধার লিংক ফেসিয়াল বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালু হয়েছে। অথচ তিনি সেখানে নাকি কোনওরকম উপস্থিতি দেন না। সেই অর্থে হাসপাতালে তাঁর উপস্থিতি শূন্য। এমনটাই জানা গেল প্রিন্সিপাল এবং এমএসভিপির কাছ থেকে। এসব কিছুই স্বাস্থ্য ভবনে বারবার জানানো হয়েছে বললেন প্রিন্সিপাল। তাঁর কথায়, ‘সকলে যদি নিজের কাজ ঠিকমতো দায়িত্ব নিয়ে পালন করেন তাহলে রোগীদের পরিষেবা দিতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

এই বিষয়ে জানতে আরএমও-কে ফোন করলে ফোন না তোলায় তাঁর কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। দিনের পর দিন কেন হাসপাতালে আসেন না তার কারণ জানতে চেয়ে ফোন করায় ডাঃ দেবীশংকর ঘোষহাজরা এই বিষয়ে কোনও রকম মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, ‘যা বলার হাসপাতাল সুপার বলবেন।’ এ প্রসঙ্গে রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, ‘আমাদের কোনও মিটিংয়ে এই প্রসঙ্গ কখনোই তোলা হয়নি। রোগীদের স্বার্থেই রেডিওলজি বিভাগের বেহাল অবস্থার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর আমাদেরকে জানানো উচিত ছিল। এখন যখন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারলাম, তখন অবশ্যই কিছু একটা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’ তবে রেডিওলজি বিভাগ নিয়ে যে ল্যাজেগোবরে হয়ে আছে এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা বলাই বাহুল্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *