কোচবিহার: রাসমেলায় ঘুরতে যাবেন বলে সোমবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রাজারহাটের বাসিন্দা শিবু দাস। কিন্তু মেলায় ঢোকার আগে যানজটের কারণে কেশব রোডে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে আটকে থাকতে হয়। এদিন একই পরিস্থিতির শিকার হন পেশায় টোটোচালক শুভাশিস দাস। মেলা শুরু হওয়ার পর থেকে হামেশাই এরকম যানজটের ছবি দেখা যাচ্ছে শহরের সিলভার জুবিলি রোড, বিশ্বসিংহ রোড ও সুনীতি রোডে।
এবিষয়ে ট্রাফিক ওসি সুরেশ দাস জানান, মেলা উপলক্ষ্যে বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ গাড়ি নিয়ে এই শহরে আসেন। ফলে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবে শহরের রাস্তায় ভিড় বেড়ে যায়। সেই জন্য রাস্তাগুলিতে যানজটের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে রাস্তার যেখানে যানজটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেখানে ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা তা মেটানোর চেষ্টা করছেন।
শহরের কেশব রোডের পাশে থাকা একটি শপিং মল থেকে বাইক নিয়ে বেরোনোর সময় রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছিল এক তরুণীকে। ওই রাস্তায় তখন টোটো, অটো এবং গাড়ির লাইন। কিছুটা এগিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন সিভিক পুলিশ বাইক আরোহীদের চেকিং করছিলেন। শহরবাসীর অভিযোগ, নো-এন্ট্রি জোনে টোটো চলাচল করলেও পুলিশের সেদিকে কোনও নজর নেই।
আরও কিছুটা এগিয়ে যেতে দেখা যায়, রাস্তার মাঝে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী গাড়িও দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার পাশাপাশি জিনিসপত্র তুলতে দেখা যায় খালাসিদের। ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তা আটকে থাকায় পথচলতি মানুষের নাজেহাল অবস্থা। কিছুক্ষণ বাদে একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে সুনীতি রোডে। সেখানেও মাঝ রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এদিনের যানজটে দীর্ঘক্ষণের জন্য আটকে পড়েন তনুশ্রী দত্ত। তাঁর ক্ষোভ, ‘রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ায় এই সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’ যদিও পুলিশের আশ্বাস, যানজট মোকাবিলায় তারা সবসময় তৎপর।
শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলির এই পরিস্থিতিতে শহরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অবৈধ পার্কিং এবং নো-এন্ট্রি জোনে টোটো প্রবেশের কারণে শহরে যানজটের সমস্যা বাড়ছে। এছাড়াও মেলার জন্য শহরের বিভিন্ন রাস্তায় সিভিক এবং ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা এখন তুলনামূলক কম। যদিও শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলিতে যানজটের সমস্যা এড়াতে কেন ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও কড়া করা হচ্ছে না, সেবিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।
