মেখলিগঞ্জ: ‘কেউ কথা রাখে না’। বলছেন গৌতম বর্মনের বাড়ির লোকজন। বিএসএফ-এর গুলিতে প্রাণ হারানো গৌতমের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝখানে কেটে গিয়েছে দু’বছর। সেই আশ্বাস পূরণ হয়নি আজও।
বাংলাদেশের জেল থেকে সদ্য মুক্তি পেয়ে ফেরা উকিল বর্মনের ছেলে পরিতোষ বর্মন সোমবারই কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজে সুপারভাইজার পদে যোগদান করেছেন। ঘটনাচক্রে এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়িতে আছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক এখনই বঞ্চনার অভিযোগ তুলছে গৌতমের পরিবার। তাঁদের ক্ষোভ, উকিলের ছেলেকে চাকরি দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে তাঁদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যদি মুখ্যমন্ত্রী রাখতেন, তাহলে পরিবারটা বেঁচে যেত।
গৌতমের দাদা পরিমল বর্মন বলেন, ‘আমি এইট পাশ করে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছি। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি। সরকার যদি এখানে আমার দক্ষতা অনুযায়ী একটা সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে, তাহলে পরিবারের দেখভাল করতে পারি।’
বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী অবশ্য আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘ওই পরিবারটির সমস্যার কথা জেলা শাসককে অনেক আগেই জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী এখন উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন। প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়টি তাঁর কাছে তুলে ধরব।’
২০২৩ সালের ১৫ জুন, গভীর রাতে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হন গৌতম। অভিযোগ, মাসির বাড়ি থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি করা হয়। তারপর মৃতদেহটি টেনে নিয়ে যাওয়া হয় সীমান্তে। যদিও বিএসএফ দাবি করে, পাচারকারীদের আক্রমণ প্রতিরোধেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল তারা। ঘটনার পরদিন সীমান্তের কাছেই গোরু উদ্ধার হয় ও গৌতমের গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার মাত্র দু’দিন পর, ১৭ জুন মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারে এসেছিলেন পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে। তখন গৌতমের বাবা-মাকে মঞ্চে ডাকেন এবং চাকরির আশ্বাস দেন। সেসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক পরেশও। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
