Cooch Behar | মহাকুম্ভের অনুকরণে শাহি স্নান তিস্তায়! খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা

Cooch Behar | মহাকুম্ভের অনুকরণে শাহি স্নান তিস্তায়! খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


হলদিবাড়ি: রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দলবেঁধে কীর্তন করতে করতে তিস্তা নদীর পাড়ে সমবেত হচ্ছিলেন। এরপর সেখানে নদীর পাড়ে প্রদীপ, ধূপকাঠি জ্বালিয়ে দলবদ্ধভাবে তিস্তার জলে স্নান করেন সকলে। স্নান সেরে গীতা পাঠের আসরে গিয়ে বসেন। এরপর অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে গীতা পাঠ শ্রবণ শেষে খিচুড়ি প্রসাদ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন সকলে। রবিবার সকাল থেকে এমনই দৃশ্য দেখা গেল জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের রায়পাড়া এলাকায় অবস্থিত তিস্তা নদীর ৭ নম্বর স্পার এলাকায়। সেখানে হলদিবাড়ি ব্লকের ৩১ নম্বর বসরাজবালা ও দেওনিয়াপাড়া গ্রামের মানুষেরা শামিল হয়েছিলেন। স্নানে অংশ নেওয়া মানুষেরা জানান, তারা কুম্ভ স্নান করতে তিস্তা নদীর পাড়ে সমবেত হয়েছেন।

আয়োজক ফণীন্দ্রনাথ রায়, প্রদীপ রায়ের সঙ্গে কথা বলতেই অবশ্য বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। তাঁরা জানান, বর্তমানে প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ চলছে। পুণ্য আর মোক্ষের উদ্দেশ্যে কোটি কোটি মানুষ সেখানে গিয়ে ত্রিবেণি সংগমে স্নান করছেন। সেই মহাকুম্ভের অনুকরণেই এদিন তিস্তা নদীর ঘাটে শাহি স্নানের আয়োজন করা হয়। তাতে সীমান্তবর্তী দুই জেলার হাজার হাজার মানুষ শামিল হয়েছিলেন। উদ্যোক্তা মণীন্দ্রনাথ রায়ের কথায়, ‘আর্থিক সংগতি না থাকায় ও বয়সজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে এলাকার প্রচুর মানুষের ইচ্ছে থাকলেও ত্রিবেণি সংগমে গিয়ে স্নান করতে পারছেন না। তাঁদের কথা ভেবেই এই আয়োজন।’ স্থানীয় তরুণ অখিল সরকার জানান, কিছুদিন আগে এলাকায় এক বহিরাগত সন্ন্যাসী আসেন। অনেকেই মহাকুম্ভে শামিল হতে না পেরে তাঁদের যে যন্ত্রণা, সেকথা তাঁর কাছে প্রকাশ করেন। তারপর তিনি তিস্তার জলে স্নানের পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী এদিন কুম্ভ স্নানের আয়োজন করা হয়। মেখলিগঞ্জের ডাঙ্গারহাট এলাকার বাসিন্দা ওই সাধু প্রহ্লাদ নরহরি দাসের কথায়, ‘হিন্দু ধর্মে সব নদীর জল পবিত্র। মহাকুম্ভের কথা স্মরণ করে তিস্তার জলে ডুব দিলে পুণ্য তথা মোক্ষলাভ সম্ভব। তাই এমন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিলাম।’

এদিনের স্নানে অংশ নেওয়া বিপুল রায়, অনীতা রায়েরা জানিয়েছেন, সকলে মিলে তিস্তা নদীর জলে শাহি স্নান করে তাঁরা অত্যন্ত খুশি। তাঁদের কথায়, ‘অন্যদিন নদীর জলে স্নান করলেও আজকের স্নানে আলাদা মানসিক শান্তি পেয়েছি। স্নানের পর গীতা পাঠ এবং খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা থাকায় এক অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।’ এদিনের স্নানে অংশ নেওয়া সুবলচন্দ্র রায় জানিয়েছেন, শারীরিক এবং আর্থিক কারণে ইচ্ছে থাকলেও কুম্ভমেলায় যেতে পারেননি। এছাড়াও সেখানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাতেও খানিক পিছিয়ে এসেছিলেন। সেই সময়ই একেবারে ঘরের কাছে এইভাবে শাহি স্নানের সুযোগ মেলায় স্বভাবতই যারপরনাই আনন্দিত তিনি।

পঞ্চায়েত সদস্য রঞ্জিত সরকার জানিয়েছেন, নদীতে এখন জল কম থাকলেও দুই জেলার পুলিশের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। এছাড়াও দুর্ঘটনা এড়াতে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সর্বদা সতর্ক ছিলেন। থার্মোকলের নৌকার মাধ্যমে নদীতে নজরদারি চালানো হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *