কোচবিহার: এমজেএন মেডিকেলের পুেরানো বিল্ডিং, বহির্বিভাগ এবং মাতৃমার ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট নেই। ৮-৯ মাস আগে ওই সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। অথচ এতদিনেও তার নবীকরণ করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিকভাবেই কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পূর্ত দপ্তরের চাপানউতোরে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হচ্ছে মেডিকেল কলেজে।
এমজেএন হাসপাতালের পুেরানো বিল্ডিংই নয়, মাতৃমার জন্য নবীকরণ করানো হয়নি ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের। মাঝে আবেদন করা হলেও বিভাগীয় দমকল আধিকারিকের (দার্জিলিং ডিভিশন) পক্ষ থেকে তা বাতিল করে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি সৌরদীপ রায়কে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দমকল থেকে পরিদর্শন করার সময় দেখা গিয়েছে, ভবনের প্রধান অগ্নিনির্বাপক পাম্পটি কার্যকর নেই। সেখানকার স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থাটি (অটো ডিটেকশন সিস্টেম) নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সৌরদীপ রায়ের জবাব, আমাদের হাসপাতালে ভেতরের সমস্ত ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। হাসপাতালের মেইন বিল্ডিংয়ের জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। আর মাতৃমার একটা জলের সমস্যা ছিল। তাছাড়া বিল্ডিং প্ল্যান পূর্ত দপ্তরের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেটা পেতে দেরি হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এই বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মৃন্ময় দেবনাথ বলেন, মাতৃমার জলের সমস্যার জন্য অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার পর আমরা কাজে হাত দিয়েছিলাম। এই বিষয়ে আমাদের তরফ থেকে দেরি হয়নি। মাতৃমার বিল্ডিংয়ের নকশা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে থাকার কথা। তবুও আমাদের কাছে চাওয়ার পর আমরা সেটা পাঠিয়ে দিয়েছি।
বিশিষ্ট আইনজীবী শিবেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মেডিকেল কলেজে রোগীর পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ যান। আর মাতৃমাতে থাকছে নবজাতকরা। একটা মেডিকেল কলেজের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট নবীকরণ করতে ঢিলেমি কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে কোনও সময় কোনও দুর্ঘটনা হলে তার দায় কে নেবে? ফায়ার সার্টিফিকেট নিয়ে কোথায় সমস্যা হচ্ছে তার উত্তরে ওসি দমকল শংকর সেন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সচেতন করার জন্য হাসপাতালে নিয়ম করে মক ড্রিল করানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যদি দমকলের চাহিদা ও নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সবকিছু না করে থাকে, তাহলে আমাদের তরফ থেকে কোনওমতেই তাদের জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করা সম্ভব নয়।
আমাদের হাসপাতালে ভেতরের সমস্ত ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। হাসপাতালের মেইন বিল্ডিংয়ের জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। আর মাতৃমার একটা জলের সমস্যা ছিল। তাছাড়া বিল্ডিং প্ল্যান পূর্ত দপ্তরের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেটা পেতে দেরি হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। – হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সৌরদীপ রায়
