কোচবিহার: জনগণের দেওয়া পুরকর অপচয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে কোচবিহার পুর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পুরসভা এলাকায় দিনেরবেলাতেও বিনা কারণে পথবাতি জ্বলে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। রবিবারও সাগরদিঘির চারিদিকে দেখা গেল, সব পথবাতি জ্বলে রয়েছে। শুধু আজ নয় রোজই আলো জ্বলে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, পুর কর্তৃপক্ষ যেখানে অর্থের অভাবে শহরের অনেক প্রান্তেই এখনও পথবাতি লাগাতে পারেনি, রাস্তাঘাট বা নিকাশি ব্যবস্থারও উন্নতিসাধন করা যাচ্ছে না, সেখানে দিনেরবেলা আলো জ্বালিয়ে রাখার বিলাসিতা কী করে দেখায় পুরসভা?
যদিও এবিষয়ে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘সাঘরদিঘির পাশে ওই আলোকস্তম্ভগুলির বাতি নির্দিষ্ট টাইমারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ও নেভে। কোনও কোনও সময় মেশিনে গোলযোগ হলে এরকম হয়। তবে পুরসভা কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ অপচয় করছে না।’
কোচবিহার শহরের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাগরদিঘির চারপাশে জেলা শাসকের দপ্তর, পুলিশ সুপারের দপ্তর, মহকুমা শাসকের দপ্তর, পুরসভা, জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, আদালত চত্বর থাকায় শহরের ওই এলাকাকে অফিসপাড়া বলা হয়। ওই এলাকায় সৌন্দর্যায়নের খাতিরে পুরসভার তরফে পথবাতিগুলি লাগানো হয়েছিল। তবে শহরের এমত প্রাণকেন্দ্র, যেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে পুরসভা, সেখানে পুর কর্তৃপক্ষ কীভাবে এমন উদাসীনতা দেখায়, সেকথা ভেবেই ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।
এবিষয়ে সাগরদিঘির পাড়ের বাসিন্দা ও আইনজীবী শিবেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘পুরকর্মীরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে এটা হতে পারে না। লাইটগুলি জ্বালানো-নেভানো নিয়ে কোনও দেখভাল নেই। প্রায়দিনই রাত পেরিয়ে ভোর, তারপর সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও একইভাবে আলো জ্বলতে থাকে। এই বিদ্যুতের খরচ সাধারণ মানুষকেই কর দিয়ে চোকাতে হয়। তাই যত দ্রুত প্রশাসন এনিয়ে সজাগ হবে ততই ভালো।’
