সায়নদীপ ভট্টাচার্য, বক্সিরহাট: পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে রসিকবিল প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্র। মোট ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই কাজ করা হবে বলে বন দপ্তর সূত্রে খবর। রসিকবিলে (Rasikbeel) ময়ূরের খাঁচা, পাখিদের জন্য অ্যাভিয়ারি, অজগরের জন্য আলাদা কনস্ট্রিক্টর হাউস, একটি ছোট ব্রিজ তৈরি এবং পশুপাখিদের পুরোনো আবাসস্থলগুলি সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে বন দপ্তর। পুজোর আগেই এই কাজ শুরু করা হবে। এতে রসিকবিল প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্রের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন জেলার বনকর্তারা।
কোচবিহারের (Cooch Behar) ডিএফও অসিতাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভবিষ্যতের জন্য যে প্রকল্পগুলি আমরা নিয়েছি তাতে রসিকবিলের আকর্ষণ আরও বাড়বে। বেশি প্রজাতির পশুপাখি দেখা এবং তাদের সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।’
বনকর্তারা জানিয়েছেন, পরিযায়ী পাখিদের জন্য সেখানে তৈরি করা হবে অ্যাভিয়ারি বা আবাসস্থল। এছাড়াও সেখানে ময়ূরের থাকার জন্য নতুন করে খাঁচা তৈরি করা হবে। সেখানে এখন ছয়টি ময়ূর রয়েছে। বর্তমানে যে খাঁচায় ময়ূরগুলি রয়েছে, সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির লেজার ক্যাট রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে দপ্তর। এছাড়া বর্তমানে সেখানে চারটি অজগর রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, অজগরের খাঁচার জায়গায় প্যাঙ্গোলিন রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। অজগরগুলি রাখার জন্য আলাদা করে কনস্ট্রিক্টর হাউস তৈরি হবে। সেখানে আরও দেশি এবং বিদেশি প্রজাতির অজগর আনার পরিকল্পনাও রয়েছে দপ্তরের। বর্তমানে যে জায়গায় পাখির খাঁচাগুলি রয়েছে, সেগুলির রূপান্তর করে এই খাঁচা তৈরি হবে।
সেলফি জোন থেকে ঘড়িয়ালের খাঁচার দিকে যাওয়ার পথে ব্রিজটি নীচু হওয়ার কারণে বর্ষাকালে জল ওঠার সম্ভাবনা থাকে। এতে পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়। পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সেখানে ছোট ব্রিজ তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে দপ্তর।
দপ্তরের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এক পর্যটক রাজেশ সরকার বলেন, ‘বেঙ্গল সাফারিকে যেভাবে সাজানো হয়েছে, সেভাবে যদি এই রসিকবিলকে সাজানো হয় তাহলে সবথেকে ভালো হয়।’ এছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি আনা সহ রসিকবিলে বন্ধ হওয়া বোটিং চালু করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা।
