কোচবিহার: দেশভাগের আগের থেকে জাঁকজমক করে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করতেন পূর্বপুরুষরা। তাঁদের দেখানো সেই পথে আজও ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন করেন নাগেশ্বরগুড়ির বাসিন্দারা। দুর্গাপুজো নয়, সারাবছর তাঁরা অপেক্ষা করেন লক্ষ্মীপুজোর। লক্ষ্মীপুজোই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় উত্সব। পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি এই গ্রামের বাসিন্দাদের আত্মীয়স্বজনরাও পুজো উপলক্ষ্যে এখানে আসেন।
কোচবিহার-২ ব্লকের ঢাংঢিংগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাগেশ্বরগুড়ি গ্রামে বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে মেলা বসে। এই গ্রামে লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে তিনটি মেলা বসে। সোমবার পুজোর পর কোথাও দুইদিন আবার কোথাও পাঁচদিনব্যাপী মেলা চলবে। আশপাশের গ্রাম থেকে এই মেলাগুলিতে কয়েক হাজার মানুষ আসেন। গ্রামীণ এলাকায় পুজো হওয়ায় স্থানীয়দের অর্থাভাব থাকলেও পুজোর আয়োজনে কোনও খামতি তাঁরা রাখতে চান না। এদিন রাতে পুজো, তাই দুপুরেও এলাকায় প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল।
নাগেশ্বরগুড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্গাপুজো নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। তাঁদের এলাকার প্রধান উৎসব লক্ষ্মীপুজো। এই গ্রামের বাসিন্দারা মূলত কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই ধনসম্পদ, সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে সবাই উৎসবে মেতে ওঠেন।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে নাগেশ্বরগুড়ি গ্রামে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করেন উদয় সংঘের সদস্যরা। এখানে দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমাটি সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতার হয়। গ্রামীণ পুজো হওয়ায় কোনও নির্দিষ্ট বাজেট না থাকলেও পুজোর পাশাপাশি তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, প্রসাদ বিতরণ সবমিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ করেন এলাকাবাসী। এই পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে চিন্ময় মজুমদার বলেন, ‘দুর্গাপুজো আমাদের গ্রামে সেভাবে হয় না। আমরা শহর এবং শহরতলির দুর্গাপুজো দেখতে যাই। লক্ষ্মীপুজোতে আমরা বেশি আনন্দ করি। লক্ষ্মীপুজোর দিনসাতেক আগের থেকে আমরা পুজোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।’
এই গ্রামের বাসিন্দা স্বপন সরকার বলেন, ‘দেশ ভাগ হওয়ার বহু আগের থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করতেন। তাঁদের দেখাদেখি পুরোনো রীতিনীতি মেনে আমাদের গ্রামে এখনও লক্ষ্মীপুজো হয়। বেশ জাঁকজমক করে এই পুজোর আয়োজন করা হয়।’
উদয় সংঘের থেকে কিছু দূরের একটি মাঠে আরেকটি পুজোর আয়োজন করে নাগেশ্বরগুড়ি লক্ষ্মীপুজো কমিটি। সেখানে পুজো উপলক্ষ্যে পাঁচদিনব্যাপী মেলা বসে। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে এই পুজো হচ্ছে বলে জানান নাগেশ্বরগুড়ি লক্ষ্মীপুজো কমিটির সভাপতি প্রণোজিৎ সরকার। এখানে ছয় ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজো করা হয়। মেলায় খেলনা এবং খাবারের দোকানের পাশাপাশি নাগরদোলাও থাকে। এছাড়া বিবেকানন্দ ক্লাবের উদ্যোগে এলাকায় একটি লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজো কমিটির সদস্য নিদাম দাস বলেন, ‘আমাদের এখানে নিয়মনিষ্ঠা মেনে দেবীর পুজো হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে মঙ্গল এবং বুধবার মেলা বসবে।’
