Cooch Behar | ডিগ্রি আছে কাজ নেই, লজ্জা ঢাকতে ঘরে সন্তান! কোচবিহারে ‘যুবসাথী’র লাইনে বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা

Cooch Behar | ডিগ্রি আছে কাজ নেই, লজ্জা ঢাকতে ঘরে সন্তান! কোচবিহারে ‘যুবসাথী’র লাইনে বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা

শিক্ষা
Spread the love


গৌরহরি দাস, কোচবিহার: কারও ছেলে মুম্বইয়ে কাজ করেন, কারও ছেলে আবার রয়েছেন শিলিগুড়িতে (Siliguri)। কেউ আবার হর্টিকালচারে মাস্টার ডিগ্রি করে ঘরে বসে রয়েছেন, আবার কেউ স্নাতক। লজ্জার কারণে তাঁদের অনেকেই যুবসাথীর ফর্ম তোলা ও জমা দেওয়ার জন্য শিবিরগুলিতে আসছেন না। ফলে তাঁদের হয়ে যুবসাথীর ফর্ম তোলা ও জমা দেওয়ার কাজ করছেন বাবা-মায়েরা। যে কারণে কোচবিহারের (Cooch Behar) ধলুয়াবাড়ি বিডিও অফিস থেকে শহরের রবীন্দ্র ভবন, প্রত্যেকটি যুবসাথীর শিবিরে প্রচুর বাবা-মায়ের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি কোচবিহার জেলাতেও যুবসাথীর (Yuva Sathi) ফর্ম তোলা ও জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় মোট ৩২টি শিবির রয়েছে। বুধবার কোচবিহার-১ ব্লকের ধলুয়াবাড়ি বিডিও অফিসে গিয়ে দেখা যায়, যুবসাথীর ফর্ম তোলা ও জমা দেওয়ার লম্বা লাইনে সাদা চুল ও দাড়িওয়ালা একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। যুবসাথীর লাইনে কেন তিনি, কৌতূহলবশত প্রশ্ন করতেই মোয়ামারির বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সি ছায়েদ আলি মিয়াঁ বলেন, ‘আমার ছেলে ইমদাদুল হক মুম্বইতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে। ও সেখানেই রয়েছে। শুনেছি সরকার যুবসাথী প্রকল্পে বেকার তরুণদের মাসে দেড় হাজার টাকা দেবে। সে কারণে ওর জন্য আমি যুবসাথীর ফর্ম নিতে এসেছি। টাকাটা পেলে তো ওর অনেকটা কাজে লাগবে।’ ছেলের জন্য ফর্ম নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দেওয়ানহাটের ঘেগিরঘাটের বাসিন্দা সফিউদ্দিন মিয়াঁ। তিনি বললেন, ‘ছেলে শিলিগুড়িতে রয়েছে। সে কারণে ওর জন্য আমি ফর্ম নিতে এসেছি।’

শহরের রবীন্দ্র ভবনে গিয়ে দেখা যায় হাজরাপাড়ার একেবারে বৃদ্ধ মনোরঞ্জন চক্রবর্তী এসেছেন মেয়ের জন্য যুবসাথীর ফর্ম নিতে। জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, ‘মেয়ে প্রথমে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাগ্রিকালচার নিয়ে স্নাতক পাশ করেছে। এরপর হর্টিকালচারে মাস্টার ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু তার পরেও এখনও চাকরি হয়নি। বাড়িতে বসে আছে। মেয়ে আসেনি। তাই আমি ওর হয়ে যুবসাথীর ফর্ম নিতে এসেছি।’ শহরের প্রবীণ বাসিন্দা ইতি দামও তাঁর মেয়ের জন্য এদিন ফর্ম নিতে রবীন্দ্র ভবনে এসেছিলেন। মঙ্গলবার রবীন্দ্র ভবনেই দেখা গিয়েছিল বৃদ্ধ অনিল বর্মনকে যুবসাথীর ফর্ম নিতে। জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘ছেলে এসেছিল। কিন্তু তখন লাইনে অনেক ভিড় ছিল। তাই সে চলে যায়। সে কারণে বিকালের দিকে ফাঁকা হওয়ায় আমি এসেছি তার হয়ে ফর্ম নিতে।’ তবে এমন অনেক প্রবীণকে লাইনে দেখা গিয়েছে, যাঁরা শিবিরে আসার কারণ সম্পর্কে মুখ খোলেননি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *