Cooch Behar | ‘জঞ্জালমুক্ত’ গ্রাম পঞ্চায়েতে জঞ্জালের পাহাড়

Cooch Behar | ‘জঞ্জালমুক্ত’ গ্রাম পঞ্চায়েতে জঞ্জালের পাহাড়

ব্লগ/BLOG
Spread the love


নয়ারহাট: ‘জঞ্জালমুক্ত’ গ্রাম পঞ্চায়েতে জমে রয়েছে পাহাড় সমান জঞ্জাল! গত ৩১ অক্টোবর কোচবিহার জেলা পরিষদের তরফে মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের নয়ারহাটকে জঞ্জালমুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিচ্ছন্নতা ও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখে জেলা পরিষদের তরফে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে বাস্তবের ছবিটা কিন্তু একেবারেই অন্যরকম। গত ছ’মাস ধরে আবর্জনা জমে রয়েছে সুটুঙ্গা নদীর তীরবর্তী নয়ারহাট বাজার এলাকায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন ভালো করে খতিয়ে না দেখে জঞ্জালমুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েত ঘোষণা করে দেওয়া হল?

এদিকে নয়ারহাট বাজার থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। কিন্তু বর্জ্য সংগ্রহ না হওয়ায় বাজার চত্বরই হয়ে উঠেছে অলিখিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান মাম্পি বর্মনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও আগে তিনি দাবি করেছেন, বাজারে জমে থাকা বর্জ্য আনতে যাওয়ার পথে উপনী নদীর ওপর একটি সেতু পেরোতে হয়। বর্তমানে সেই সেতুটি দুর্বল অবস্থায় থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সে কারণেই সেতু পেরিয়ে বর্জ্য পরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে তৃণমূলের নয়ারহাট অঞ্চল সভাপতি হিমাদ্রি রায়বর্মা বললেন, ‘বাজার চত্বরে জমে থাকা জঞ্জাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নয়ারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত জঞ্জালের সমস্যা মেটানো হবে।’

জঞ্জাল সমস্যা নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছে বিজেপি। দলের কোচবিহার জেলা কমিটির সদস্য আশুতোষ সরকারের প্রতিক্রিয়া, ‘নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতকে জঞ্জালমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, বাজারে পরিচ্ছন্নতার কোনও ব্যাপার নেই। এমনকি পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কোনও সদিচ্ছাও নেই।’

মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের সবচেয়ে বড় বাজার এটি। দিনদিন বাজারের আয়তন আরও বাড়ছে। সপ্তাহে দু’দিন হাটও বসে এখানে। গবাদিপশু, সবজি, আনাজ সবই বেচাকেনা হয়। স্বাভাবিকভাবে বাজার চত্বরে নিত্যদিন প্রচুর পরিমাণে আবর্জনা জমা হয়। পরে সেগুলিই জড়ো করে ফেলে রাখা হচ্ছে নদীর ধারে, বাজারের আনাচেকানাচে।

বাজারে দোকান রয়েছে দয়াল বর্মনের। তাঁর কথায়, ‘আবর্জনার গন্ধে দোকানে বসে থাকাই দায় হয়ে পড়ছে। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হোক প্রশাসন।’ নয়ারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, ‘বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। ফের যোগাযোগ করা হবে।’ অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক শম্ভুনাথ সিংহ জানালেন, নদীর কোলে ফেলে রাখা বর্জ্য বর্ষার সময় নদীতে ভেসে যায়। ফলে নদীর জলও দূষিত হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *