মেখলিগঞ্জ: ‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেহ নাহি দিবে অধিকার’ বিশ শতকের রজত জয়ন্তী পেরোতে চললেও কিছু ক্ষেত্রে এ কথাই সত্যি হয়ে থাকছে বিশ্বকাপজয়ী বীরাঙ্গনাদের দেশের একটি কোণে। কৃষিনির্ভর মেখলিগঞ্জে দিন-দিন কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা কমায় সংসারের হাল শক্ত করতে চাষের কাজকে পেশা হিসেবে বাছছেন শ্রমিক গৃহিণীরা। কিন্তু মহিলা শ্রমিকরাই তাঁদের অন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। পেশায় লিঙ্গ ও পারিশ্রমিক বৈষম্যের শিকার হ্রাস এগুলি নানা কর্মসূচির অন্যতম বিষয় হলেও বাস্তব পরিসরের অনেক ক্ষেত্রেই তা থমকে যাচ্ছে।
মেখলিগঞ্জে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষিকাজে নির্ভর করতে হচ্ছে মহিলা শ্রমিকের ওপর। চাষের জমিতে সারাবছর কাজ না মেলায় পুরুষদের একাংশ অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন। আলুর বীজ রোপণ বা তোলা, পাটখেতের কাজ সহ কৃষিকাজে মহিলারা এগিয়ে আসছেন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় চাষের জমিতে একজন পুরুষ দৈনিক হাজিরায় পান ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, একই কাজ করে একজন মহিলা দৈনিক হাজিরা পান মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। পুরুষ ও মহিলা উভয় শ্রমিককেই দিনে একবারই খাবার দেওয়া হয়। চাষের সঙ্গে যুক্ত মহিলারাই জানান, এ বিষয়ে বলতে গেলে তাঁদের কাজের সঙ্গে পুরুষদের কাজের তুলনা করা হয়। এমনকি সামাজিক পরিস্থিতি, কাজ হারানোর ভয়ে এই বিষয়ে প্রশাসনিক মহলেও অভিযোগ জানাতে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন মহিলা শ্রমিকদের অধিকাংশ। তাই দিনের পর দিন সমান দক্ষতায় সমপরিমাণ কাজ করেও লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। বঞ্চিত থাকছেন নিজেদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনুষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে দেওয়া বক্তব্য কি শুধুই লোকদেখানো?
মেখলিগঞ্জ ব্লকের ৭৭ নিজতরফ এলাকার কৃষিশ্রমিক মালেকা বিবি বলেন, ‘আমরা ছেলেদের চেয়ে কোনও অংশে কম কাজ করি না। অথচ পুরুষদের বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে বলেও কোনও লাভ হয় না। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। এই বৈষম্য বন্ধ হলে মহিলারা আরও বেশি সংখ্যায় কাজে এগিয়ে আসবেন।’ একই সুর শোনা গিয়েছে মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষক সরস্বতী মণ্ডলের গলাতেও। তাঁর বক্তব্য, ‘পুরুষদের কাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কাজ যখন এক, পারিশ্রমিকও তখন একই হওয়া উচিত।’ মেখলিগঞ্জের সহকারী লেবার কমিশনার সিদ্ধান্ত ঘোষ বলেন, ‘এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসক অতনুকুমার মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি এই বৈষম্য সত্যিই চলে, দ্রুত সেটার সুরাহা হবে।’
