জামালদহ: বিল্ডিংয়ের বাইরের দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচয়। পাশে রয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের বোর্ড। তবুও সেই বিল্ডিংয়ে ঢোকার মুখেই পড়ে রয়েছে আলুবোঝাই বেশকিছু বস্তা। একঝলকে দেখে একপ্রকার হিমঘর ভেবে ভুল করতেই পারে কেউ। সরকারি উদ্যোগে মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়তের দক্ষিণ উছলপুকুরি গ্রামে নির্মিত সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছবিটা এখন এরকমই। প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাজ ছয় মাস আগে শেষ হলেও এখনও সাধারণ মানুষের জন্য এর দরজা খোলেনি বলে অভিযোগ। সরকারি সম্পত্তির এই অপব্যবহারে ক্ষোভের রেশ ছড়িয়েছে স্থানীয় মহলে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিষেবার দাবিতে সরব বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবা না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বারান্দা ও প্রবেশপথের সামনে বিপুল পরিমাণ আলু মজুত করা হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত পরিকাঠামোর অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চ্যাংরাবান্ধা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি। এ বিষয়ে মেখলিগঞ্জের বিডিও নরেশ রাজ রাই বলেন, ‘এখনও কেন্দ্রটি চালু হয়নি। তাই এটিকে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র বলা যাচ্ছে না। আলু মজুতের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়তের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি সদস্য দেবরাজ দেবশর্মার বক্তব্য, ‘আলুর বস্তা রাখার বিষয়টি সহ সমগ্র বিষয়টি পঞ্চায়তের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা বিডিওকে লিখিতভাবে জানাব। আশা করছি খুব শীঘ্র এটি চালু হবে।’ বিজেপির মেখলিগঞ্জ উত্তর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জীব রায় জানান, খুব তাড়াতাড়ি এটিকে চালু করা হবে।
স্থানীয় অশ্বিনী অধিকারী ও পার্থ রায় লস্করের বক্তব্যে উঠে আসে, সামান্য চিকিৎসার জন্যও আমাদের জামালদহ, চ্যাংরাবান্ধা বা মেখলিগঞ্জ যেতে হয়। গরমের মধ্যে এত দূর রোগী নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। ঘরের কাছে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হলেও পরিষেবা নেই। বরং সেখানে আলু মজুত করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সেখানে আলুভর্তি করে অলিখিত হিমঘর তৈরি হয়েছে। মাঝে মাঝে ভাবতে অবাক লাগে আমরা মানুষ নাকি গোরু-ছাগল। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালুর দাবিতে প্রশাসনের মুখাপেক্ষী স্থানীয়রা।
