Cooch Behar | ক্যানসারকে হারিয়ে ফের ২২ গজে বিশ্বজিৎ, কোচবিহারের ‘যুবরাজ’ এখন তামাকমুক্ত সমাজের কাণ্ডারি

Cooch Behar | ক্যানসারকে হারিয়ে ফের ২২ গজে বিশ্বজিৎ, কোচবিহারের ‘যুবরাজ’ এখন তামাকমুক্ত সমাজের কাণ্ডারি

শিক্ষা
Spread the love


শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: ২০১১ সাল। ক্রিকেট বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছিলেন যুবরাজ সিং। তখনও বুঝতে পারেননি, তাঁর শরীরে বাসা বাঁধছে মারণরোগ ক্যানসার। এরপর একবছর কঠিন লড়াইয়ের পর ক্যানসারকে জয় করেন তিনি।

কোচবিহারের (Cooch Behar) টাকাগাছ এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাসের কাছে যুবরাজ অনুপ্রেরণা। যুবরাজের মতোই ক্যানসারের ইয়র্কারকে ছয় ছক্কা মেরেছেন তিনি। ক্রমাগত গুটখা খেয়ে শরীরে ক্যানসার বাধিয়েছিলেন। বছরখানেক চিকিৎসার পর বর্তমানে সেই রোগ থেকে মুক্ত। ক্যানসারকে জয় করে এবার তামাকজাত দ্রব্য সহ মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছেন তিনি।

পেশায় একটি হার্ডওয়্যার দোকানের কর্মচারী হলেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভালো ক্রিকেট খেলায় বেশ পরিচিতি রয়েছে বিশ্বজিতের। ক্যানসারকে হারিয়ে ক্রিকেটের মাঠেও ফিরেছেন। ব্যাট আর মনে অদম্য সাহস জুগিয়ে নিয়েছেন ৩৩ বছরের এই তরুণ।

বিশ্বজিতের বাড়িতে বাবা, মা, স্ত্রী ও আড়াই বছরের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। এতদিন সব ঠিকঠাক চললেও গতবছর মার্চে প্রথম তাঁর সমস্যা ধরা পড়ে। নিয়মিত গুটখা খেতেন। গালে ক্ষত তৈরি হওয়ায় কোচবিহারে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। এরপর বেঙ্গালুরুতে গিয়ে পরীক্ষা করাতেই বিষয়টি ধরা পড়ে। দেখা যায়, ওরাল ক্যানসার (Oral Most cancers) হয়েছে। বাড়তে থাকে অসুস্থতা। সেইসঙ্গে বাড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে চিকিৎসা করার চিন্তা।

এরপর মুম্বইয়ে চিকিৎসা শুরু হয়। টানা ৯ মাস তিনি কাজকর্ম থেকে দূরে থাকেন। প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচ করে চিকিৎসার পর বর্তমানে তিনি এই রোগ থেকে মুক্ত।

বিশ্বজিৎ বলছিলেন, ‘অতিরিক্ত গুটখা খাওয়াই আমার কাল হয়েছিল। প্রথম অবস্থাতেই ক্যানসার ধরা পড়ায় এখন সুস্থ হতে পেরেছি। আমার প্রথম লক্ষ্য, যারা গুটখা খায় তাদের সচেতন করা। যাতে তারা দ্রুত গুটখা ছেড়ে দেয়।’ বিশ্বজিতের আরও সংযোজন, ‘আমি ক্রিকেট খেলতে খুব ভালোবাসি। যখন ক্যানসার আক্রান্ত হলাম তখন ভেবেছিলাম আর হয়তো ক্রিকেট খেলতে পারব না। যুবরাজ সিং আমার অনুপ্রেরণা। তিনি ক্যানসার জয় করে খেলার মাঠে ফিরে এসেছেন। তার থেকেই মনে জোর পেয়েছিলাম। আবার খেলার মাঠে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।’

দু’দিন আগেই টাকাগাছ বিবেকানন্দ ক্লাব ও ব্যায়ামাগার আয়োজিত একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁকে আয়োজকদের তরফে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। তাঁর এই উদাহরণ দেখে অনেকেই মনে জোর পাবে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দা পার্থচন্দ্র রায়। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বজিতের অদম্য মনের জোর রয়েছে। ও আবার খেলার মাঠে ফিরে এসেছে। পাশাপাশি গুটখা সহ মাদকের বিরুদ্ধেও সব জায়গায় প্রচার করছে। তাতে অনেকেই সচেতন হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *