কোচবিহার: দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ এবং ছবি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ি এবং গৌড়বঙ্গে সেই কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। ব্যতিক্রম কোচবিহার জেলা। জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছে প্রসাদ পৌঁছানো তো দূরের কথা, এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনও নির্দেশিকাও আসেনি। কোচবিহারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক অঙ্গিরা দত্ত বলেছেন, ‘এবিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশিকা আমরা পাইনি। পেলে সেইমতো কাজ করা হবে।’
এদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবার কর্মীসংকট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে কী করে সেই ‘গুটিকয়েক’ কর্মীকে দিয়ে গোটা জেলায় প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দির উদ্বোধনের আগেই তিনি রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে সেখানকার মন্দিরের প্রসাদ এবং ছবি পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে সেই কাজের নির্দেশও দেওয়া হয়। যদিও জলপাইগুড়ি এবং গৌড়বঙ্গে জগন্নাথের প্রসাদ ও ছবি বিতরণের কাজ কাজ কারা করছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির তৈরি নিয়ে প্রশাসনিক মহল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে রাজ্যজুড়ে উৎসবের মেজাজ তৈরি করা হয়েছিল। এই মন্দির উদ্বোধনের পেছনে ধার্মিক এবং সাংস্কৃতিক কারণ যাই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক মহলের দাবি, জগন্নাথ মন্দিরের নাম ভাঙিয়ে হিন্দু ভোট টানতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি ঠিক যেরকমটা করেছিল অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে যদি জগন্নাথের প্রসাদ এবং ছবি পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে এই কর্মসূচি নিয়ে গোটা রাজ্যে যে আলোড়ন তৈরি হবে, সেটা বেশ ভালোভাবেই জানে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। সেই কৌশলকে কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন উপলক্ষ্যে কোচবিহারে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মন্দির উদ্বোধনের আগে জেলার অনেক জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের খোলকরতাল বাজিয়ে নামসংকীর্তন করতেও দেখা গিয়েছে।
যদিও প্রসাদ ও ছবি বিতরণ প্রসঙ্গে দলের জেলা নেতৃত্বের কাছেও রবিবার পর্যন্ত কোনও খবর এসে পৌঁছায়নি। দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনও নির্দেশ আসেনি। নির্দেশ এলে সেইমতো কাজ করব।’
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসমতো কোচবিহারে কবে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে? প্রতিটি বাড়িতেই প্রসাদ পৌঁছাবে, নাকি বিশেষ বিশেষ কোনও এলাকা থেকে এই কর্মসূচি হবে? শেষপর্যন্ত যে কী হবে, তা সময়ই বলবে।
